ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধ কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে না। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার ২০ এপ্রিল ইরানের আইন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় দেশকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে একই সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে সব ধরনের যুক্তিসঙ্গত ও কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা জরুরি। তার মতে, সংঘাত কখনোই স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না, বরং তা ধ্বংস ও অস্থিতিশীলতা বাড়ায়।
তিনি আরও বলেন, জনগণকে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছভাবে জানানো সরকারের দায়িত্ব। ভুল তথ্য বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং এতে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ—দুটিই সততার সঙ্গে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।
এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন ওমান উপসাগরে একটি ইরানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি বাড়ছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর ঘোষণা দিলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরিকল্পনায় নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্য একদিকে ইরানের আত্মরক্ষার অবস্থানকে শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার বার্তাও দিচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একই সঙ্গে কঠোর ও বাস্তববাদী অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে এই বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে একটি শান্তির ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

