মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে সংলাপের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
২২ এপ্রিল ২০২৬, রাত ২১:৪৭ মিনিটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য বৈঠকটি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আলোচনার একটি বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত সেই দিকেই এগোচ্ছে।
ইসলামাবাদভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফার সংলাপ শুরু হতে পারে। এতে করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই সম্ভাবনার পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতি এখনও জটিল রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনুমতি ছাড়া প্রবেশের কারণে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে—“এমএসসি ফ্রান্সেসকা” এবং “এপামিনোন্ডাস” নামের দুটি জাহাজ আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ইসরায়েলি সরকারের মালিকানাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজ দুটি অনুমতি ছাড়া চলাচল করছিল এবং বারবার নিয়ম লঙ্ঘন করছিল। পাশাপাশি তারা নৌ-চলাচল সহায়ক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করেছে এবং গোপনে প্রণালী ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল।
ইরানের নৌবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে দেশের আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সম্ভাব্য সংলাপের খবর শান্তির আশা জাগাচ্ছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়, ফলে এখানে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের দ্বৈত চিত্র তুলে ধরছে—একদিকে সংলাপের সম্ভাবনা, অন্যদিকে বাস্তব উত্তেজনা। আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টা তাই শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

