বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একযোগে ১৩ জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে অবসরে পাঠানো হয়।
২২ এপ্রিল ২০২৬, সন্ধ্যা ১৯:১৬ মিনিটে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি ড. এ এফ এম মাসুম রব্বানী, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং রংপুর পিটিসির কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) মহা. আশরাফুজ্জামান।
এছাড়া এন্টি টেররিজম ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিআইজি এ জেড এম নাফিউল ইসলাম ও মো. মনিরুল ইসলাম, নৌ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ এবং পুলিশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত মাহফুজুর রহমান ও শামীমা বেগমকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন এপিবিএন সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন, শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি আবু কালাম সিদ্দিক, পুলিশ টেলিকমের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম এবং পার্বত্য জেলাসমূহে কর্মরত ডিআইজি সালমা বেগম।
সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য সব ধরনের অবসর সুবিধা পাবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে এতসংখ্যক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো প্রশাসনের ভেতরে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়। এটি কেবল নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং নীতি ও কার্যক্রমে পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত প্রশাসনে গতিশীলতা আনা, জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়ে থাকে। ফলে এই পদক্ষেপের প্রভাব আগামী দিনে পুলিশ প্রশাসনের কাঠামো ও কার্যক্রমে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

