ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং গাজা পরিস্থিতিকে ঘিরে বাড়তে থাকা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল নতুন করে বড় অঙ্কের অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের উন্নত আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য গোলাবারুদ কেনার অর্ডার দিয়েছে, যা সরবরাহ করবে দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস।
এই চুক্তি কেবল একটি অস্ত্র ক্রয় নয়, বরং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ধরনের আধুনিক গোলাবারুদ মূলত বিমানবাহিনীর সক্ষমতা ধরে রাখা এবং নির্ভুল আঘাত হানার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা চলমান সংঘাত পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এলবিট সিস্টেমস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ধরনের অস্ত্র উৎপাদনে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তারা বহু বছর ধরেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। তাদের দাবি, এই গোলাবারুদ ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই চুক্তিকে দেশের অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও একই কথা বলেছেন। তার ভাষায়, এই চুক্তি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে সহায়তা করবে এবং দেশীয় অস্ত্র উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার দাবি জোরালো হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে এই অভিযানের সমালোচনা বাড়ছে, যা ইসরায়েলের সামরিক নীতিকে আরও বিতর্কের মুখে ফেলেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় ৭২ হাজার ৬৫২ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭২ হাজার ৩২০ জন। এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্তগুলোকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এই নতুন অস্ত্র চুক্তি একদিকে যেমন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা, অন্যদিকে এটি বৈশ্বিক রাজনীতি, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়াবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

