দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামো বিশ্বকে বহু দশক ধরে একটি পরিচিত ছকে বেঁধে রেখেছিল, এখন সেটি আর আগের মতো কার্যকর নেই। দীর্ঘদিন ধরে অনেক দেশ ধরে নিয়েছিল, অস্থিরতা এলেও শেষ পর্যন্ত পুরোনো ব্যবস্থাই টিকে থাকবে। কিন্তু এখন স্পষ্ট হচ্ছে, আমরা শুধু এক সরকার থেকে আরেক সরকারের পরিবর্তন দেখছি না; আমরা দেখছি এক পুরো যুগের ফাটল। এই বাস্তবতা নিয়ে তীব্র সতর্কবার্তা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে, যেখানে বলা হয়েছে—এটি কেবল “পরিবর্তন” নয়, বরং “বিচ্ছেদ”।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ বছর বলেছিলেন, বিশ্ব এখন “রূপান্তরের” নয়, “ভাঙনের” মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কথাটি কেবল রাজনৈতিক অলঙ্কার নয়; বরং বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সংক্ষিপ্ত সার। ১৯৪৪ সাল থেকে যে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা গড়ে উঠেছিল, সেটির ভিত্তি ছিল বহুপাক্ষিকতা, উন্মুক্ত বাণিজ্য, প্রতিষ্ঠানগত নিয়ম, এবং সেই ব্যবস্থার কেন্দ্রে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব। কিন্তু এখন সেই কেন্দ্র নিজেই সরে যাচ্ছে। আর যখন স্তম্ভই দুলতে শুরু করে, তখন ছাদের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
কেন পুরোনো কাঠামো আর টিকছে না
অনেকে মনে করতে পারেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার দুর্বলতা নতুন কিছু নয়। বাস্তবেও তা-ই। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট দেখিয়েছিল, যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক কাঠামো আগের মতো নিরাপদ নয়। পরে মহামারির সময়ও বোঝা যায়, বৈশ্বিক ধাক্কার অসম প্রভাব সামাল দেওয়ার মতো ন্যায়সংগত ও কার্যকর ব্যবস্থা বিশ্ব গড়ে তুলতে পারেনি। কিন্তু শেষ আঘাতটি এসেছে ভেতর থেকেই—যে দেশ এই ব্যবস্থার প্রধান স্থপতি ছিল, সেই যুক্তরাষ্ট্রই এখন তার পুরোনো নেতৃত্বের ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে।
এই অবস্থায় প্রশ্ন হচ্ছে: সামনে কী আসবে?
উত্তর এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে কয়েকটি বিষয় ক্রমেই নিশ্চিত হয়ে উঠছে।
প্রথমত, পুরোনো বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা আর আগের খোলামেলা অবস্থায় ফিরবে না। এর পেছনে কেবল রাজনৈতিক আবেগ নয়, কাঠামোগত কারণও আছে। ২০২৫ সালে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে দেশটি এখন বিশ্বের মোট উৎপাদন খাতের প্রায় ৩৫% নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রায় সব ধরনের শিল্পপণ্য সরবরাহ করার সক্ষমতা তৈরি করেছে। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে চীন এখন শুধু এক অংশগ্রহণকারী নয়, বরং উৎপাদনশক্তির এক বিশাল কেন্দ্র।
দ্বিতীয়ত, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক পথে ঠেলে দিয়েছে, যেখান থেকে পেছনে ফেরা রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মার্কিন শুল্কহারকে ১৯৩০-এর দশকের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলেছেন, এবং আগামী এক দশকে এ থেকে ২-৩ ট্রিলিয়ন ডলার আয়ের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই সম্ভাব্য আয়ের সঙ্গে গৃহস্থালি পর্যায়ে করছাড়ের রাজনীতি জুড়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতের কোনো প্রশাসন যদি এই শুল্কব্যবস্থা উল্টে দিতে চায়, তাকে বড় রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।
শুধু অর্থনীতি নয়, ভেঙেছে নীতিগত ভিত্তিও
এখানেই বড় বিষয়টি আসে। এই পরিবর্তন কেবল বাণিজ্য বা মুদ্রার হিসাব নয়; এটি নিয়ম, আস্থা ও নৈতিকতার সংকটও। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্বের সীমারেখাও ক্রমশ ঝাপসা হয়েছে। বহু দশক ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি অলিখিত নীতি কাজ করত—স্বার্থের সংঘাত এড়ানো হবে, স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করা হবে, আর বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোকে সমর্থন দেওয়া হবে। এখন সেই নীতিগত ভিত্তি ভেঙে পড়েছে। শুধু ঘোষণা দিয়ে এমন আস্থা আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
এই জায়গায় এসে গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য বোঝা দরকার। পুরোনো ব্যবস্থা দুর্বল মানেই এই নয় যে বৈশ্বিক শাসন অসম্ভব। বরং এখন দরকার কম উচ্চাভিলাষী কিন্তু বেশি বাস্তববাদী এক কাঠামো। আগে ধারণা ছিল—উন্মুক্ত বাজার, আইনের শাসন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর দাঁড়িয়ে একক বৈশ্বিক মডেল চালু থাকবে। এখন সেই ধারণা আর বাস্তবসম্মত নয়। সামনে হয়তো এমন এক ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, যেখানে দেশগুলো তাদের নিজস্ব পছন্দমতো অর্থনৈতিক পথ বেছে নেবে, কিন্তু এমন কাজ করতে পারবে না যা অন্যদের ওপর খরচ চাপায় বা বিশ্বজনীন স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
নতুন নিয়ম কেমন হতে পারে
এখানে অর্থনীতিবিদ ড্যানি রডরিকের প্রস্তাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাবনার কেন্দ্রে আছে এমন নীতি, যা প্রতিবেশীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নিজের সুবিধা নেওয়ার প্রবণতাকে ঠেকাবে, আবার একই সঙ্গে জলবায়ু বা আর্থিক স্থিতির মতো যৌথ বৈশ্বিক সম্পদকেও রক্ষা করবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি এক ধরনের মধ্যপন্থা—এটি অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত বিশ্বায়ন চায় না, আবার বেপরোয়া অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদকেও প্রশ্রয় দেয় না।
এই প্রস্তাবের আলোকে ট্রাম্প যুগের অনেক পদক্ষেপ নতুনভাবে বিচার করা যায়। এমন শুল্কনীতি, যা শেষ পর্যন্ত শুল্ক আরোপকারী দেশকেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে, হয়তো কোনোভাবে টিকে যেতে পারে। কিন্তু এমন পদক্ষেপ, যা বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা অস্থিতিশীল করে বা জলবায়ু সহযোগিতা দুর্বল করে, তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা নয়। সমস্যা হলো, এই নিয়ম কার্যকর করবে কে? যুক্তরাষ্ট্র যদি অনুপস্থিত থাকে, বা সক্রিয়ভাবেই বিরূপ থাকে, তাহলে নিয়ম রক্ষার দায়িত্ব কার হাতে যাবে? এখানেই মধ্যম শক্তির দেশগুলোর ভূমিকা সামনে আসে। আর ইউরোপের জন্য এটি একই সঙ্গে কঠিন পরীক্ষা ও বিরল সুযোগ।
ডলারের শক্তি কি কমছে
আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থার দিকে তাকালে পরিবর্তনের গভীরতা আরও পরিষ্কার হয়। বহু ঝড়ঝাপটা সত্ত্বেও ডলার তার আধিপত্য ধরে রেখেছে—১৯৭১ সালে স্থির বিনিময়হার ব্যবস্থার পতন, ইউরোর উত্থান, একাধিক সংকট—কোনোটিই তাকে সরাতে পারেনি। কিন্তু এবার চাপটি বাইরের নয়, ভেতরের। আর তাই এই চ্যালেঞ্জটি আগেরগুলোর চেয়ে আলাদা।
মজার বিষয় হলো, ডলারভিত্তিক স্থিতিমুদ্রার বিস্তার ডলারের চাহিদা কিছুটা বাড়িয়েছে। কিন্তু একই সময়ে কয়েকটি বড় ঝুঁকিও জমছে—ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের বিস্ফোরক বৃদ্ধি, এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের খণ্ডিত হয়ে যাওয়া। এগুলো একসঙ্গে ডলারের প্রাধান্যের ভিত্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করছে। বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে, যদি পরবর্তী ফেড প্রধান ২০০৮ সালের পর থেকে বৈশ্বিক শেষ আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করা মুদ্রা-বিনিময় সহায়তা কমিয়ে দেন, তাহলে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ফল খুবই গুরুতর হতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে ডলারের জায়গায় সরাসরি চীনা মুদ্রা এসে বসবে। বরং সামনে হয়তো বহুমুখী বা বহুকেন্দ্রিক মুদ্রাব্যবস্থা তৈরি হবে। চীনা মুদ্রার সামনে এখনো মূলধন নিয়ন্ত্রণ ও রিজার্ভ মুদ্রা-ইস্যুকারীর দায় নিতে অনীহার মতো সীমাবদ্ধতা আছে। তবু চীনের উৎপাদনশক্তি এত বড় যে আঞ্চলিক পর্যায়ে তার মুদ্রার ভূমিকা বাড়বে—এটি প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে ইউরোরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও বাজারের গভীরতা আছে, কিন্তু তার জন্য ইউরোপকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে হবে।
ইউরোপ বুঝেছে, কিন্তু নেতৃত্ব এখনো দেয়নি
ইউরোপীয় নেতারা অনেক দিন ধরেই বৈশ্বিক ব্যবস্থার ভাঙন বুঝছিলেন। তবু তারা এমন আচরণ করছিলেন যেন যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক ব্যবস্থাই অনির্দিষ্টকাল টিকে থাকবে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সি সেই আত্মতুষ্টিকে ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু ধাক্কা খাওয়া আর নেতৃত্ব দেওয়া এক জিনিস নয়। এখানেই ইউরোপের দুর্বলতা চোখে পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়িয়ে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ১৫% মার্কিন শুল্ক মেনে নিয়েছে। একই সঙ্গে মেরকোসুর ও ভারতের সঙ্গে যেসব বাণিজ্যচুক্তি বহু আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো এখন গিয়ে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। অর্থাৎ ঘটনাপ্রবাহকে নেতৃত্ব দেওয়ার বদলে ইউরোপ এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানে আছে।
এমনকি ইউরোর আন্তর্জাতিক ভূমিকা বাড়ানোর প্রশ্নেও ইউরোপ এখনো দ্বিধাগ্রস্ত। মার্কিন সরকারি বন্ডকে ইউরোপীয় ব্যাংকিং নিয়মে আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকিমুক্ত ধরা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবও অস্পষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ইউরোবন্ড ধরনের উপকরণ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও তা এখনো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকারে রূপ নেয়নি। সবচেয়ে বড় ঘাটতি, ইউরোপ এখনো চীন নিয়ে সুসংহত কৌশল গড়ে তুলতে পারেনি।
অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা মানেই বিশ্ববিচ্ছিন্নতা নয়
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে। বেশি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের কথা বললেই কেউ কেউ ধরে নেন, তা বুঝি বিশ্বায়ন থেকে পিছু হটা। আসলে বিষয়টি উল্টোও হতে পারে। একটি খণ্ডিত, অনিশ্চিত বিশ্বে অর্থপূর্ণভাবে যুক্ত থাকতে হলে আগে নিজেকে শক্তিশালী করতে হয়। নিজের ভেতরের স্থিতি ছাড়া বাইরের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না।
এই ভাবনাটিকেই ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব “মূল্যভিত্তিক বাস্তববাদ” বলে অভিহিত করেছিলেন। এর অর্থ হলো, শুধু নৈতিক বক্তৃতা নয়, আবার নিছক ক্ষমতার খেলাও নয়; বরং মূল্যবোধকে মাথায় রেখে বাস্তবতা স্বীকার করা। আজকের বিশ্বে এই দৃষ্টিভঙ্গি ক্রমেই বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। কারণ সামনে হয়তো এমন এক সময় আসছে, যখন দেশগুলোকে একই সঙ্গে নীতি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—সব কিছুর হিসাব একসঙ্গে মেলাতে হবে।
সামনে কী ধরনের বিশ্ব গড়ে উঠতে পারে
সবশেষে যে কথাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—যুক্তরাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার দুর্বলতা মানেই অরাজকতা অবশ্যম্ভাবী নয়। বিশৃঙ্খলার বিকল্প আছে। তবে সেই বিকল্প আপনা-আপনি তৈরি হবে না; তা গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজন এমন এক জোট, যারা শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখবে না, বরং কম সুশৃঙ্খল পৃথিবীতেও ন্যূনতম নিয়ম, আস্থা ও স্থিতি রক্ষায় ভূমিকা নেবে।
এই জোটের কাজ হবে তিনটি।
প্রথমত, বিভিন্ন অর্থনৈতিক মডেলের সহাবস্থান মেনে নেওয়া।
দ্বিতীয়ত, প্রকাশ্য অ-সহযোগিতামূলক আচরণকে নিরুৎসাহিত করা।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ভিত্তি হিসেবে দেশীয় স্থিতি ও সহনশীলতায় বিনিয়োগ করা।
অর্থাৎ বিশ্বকে বাঁচাতে হলে আগে রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের ঘরও শক্ত করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, তাদের আর অপেক্ষা করে বসে থাকলে চলবে না যে যুক্তরাষ্ট্র একদিন আগের ভূমিকায় ফিরে আসবে।
ট্রাম্প-পরবর্তী পৃথিবী আসলে শুধু একজন নেতার পরের পৃথিবী নয়; এটি এমন এক সময়ের প্রতিচ্ছবি, যখন পুরোনো বিশ্বায়নের প্রতিশ্রুতি, বহুপাক্ষিকতার আত্মবিশ্বাস, আর ডলারকেন্দ্রিক স্থিতির ধারণা—সবই নতুন পরীক্ষার মুখে। এই পরিবর্তন ভয়েরও, আবার সম্ভাবনারও। কারণ পুরোনো কাঠামো ভাঙলে ঝুঁকি বাড়ে, কিন্তু নতুন কাঠামো গড়ার সুযোগও তৈরি হয়।
এখন মূল প্রশ্ন একটাই: কে এগিয়ে এসে নতুন নিয়মের ভাষা লিখবে?
যদি মধ্যম শক্তির দেশগুলো এবং ইউরোপ বাস্তববাদী, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী ভূমিকা নিতে পারে, তাহলে ভাঙনের মধ্য থেকেও নতুন ভারসাম্য জন্ম নিতে পারে। আর যদি তারা দেরি করে, তাহলে বিশ্ব আরও দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিচ্ছিন্নতার মধ্যে ঘুরপাক খাবে।

