মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আরোপ করা টোল থেকে প্রথম অর্থ পেয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের উপ-স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবেই জানিয়েছেন, এই টোলের অর্থ ইতোমধ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে—যা বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “হরমুজ থেকে পাওয়া টোলের প্রথম অর্থ আমাদের সেন্ট্রাল ব্যাংকে পৌঁছেছে।” যদিও এই অর্থের পরিমাণ বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান হরমুজ প্রণালিকে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ—হরমুজ প্রণালি—দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। ফলে এখানে টোল আরোপের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে।
এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের নৌ-বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে না নেয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হবে না।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধকে চলমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি তখনই অর্থবহ হবে, যখন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে জিম্মি করার মতো পরিস্থিতি আর থাকবে না।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতির মাঝেও কিছু পক্ষের ‘যুদ্ধবাজি’ অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ঘালিবাফ স্পষ্ট করে দেন, একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করা হলে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হবে না। তার ভাষায়, সামরিক শক্তি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে যেসব লক্ষ্য অর্জন করা যায়নি, তা এই চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেও অর্জন করা যাবে না।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের এই নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য পথ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

