রাশিয়া থেকে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন সচল হওয়ার পর ইউক্রেনের জন্য বড় আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কিয়েভের চলমান অভ্যন্তরীণ ব্যয় মেটাতে ইইউ মোট ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ অনুমোদন করেছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক চাপে একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঋণের পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার একটি প্যাকেজও অনুমোদন দিয়েছে ইইউ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউক্রেনকে এই ঋণ সরাসরি ফেরত দিতে হবে না। বরং যুদ্ধ শেষে রাশিয়া যদি ক্ষতিপূরণ প্রদান করে, তাহলে সেই অর্থ থেকে ঋণ সমন্বয় করা হবে। অন্যথায় ইউরোপে জব্দ থাকা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ২১০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহার করে ঋণ পরিশোধ করা হতে পারে।
ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি সহজ হয়নি। হাঙ্গেরি শুরুতে এই সিদ্ধান্তে ভেটো দিয়েছিল, যার ফলে পুরো প্রক্রিয়া আটকে যায়। পরে সেই ভেটো প্রত্যাহারের পরই ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে যায়। ইইউর বর্তমান সভাপতি দেশ সাইপ্রাস জানিয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতরা এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য লিখিত প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ইইউ আগেই গত ডিসেম্বর মাসে এই ঋণ অনুমোদনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছিল। তবে হাঙ্গেরির সঙ্গে ইউক্রেনের একটি পাইপলাইন নিয়ে বিরোধ এই প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে। হাঙ্গেরির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, যিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, অভিযোগ করেন যে ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে তেল পাইপলাইন মেরামতে দেরি করছে। সেই সময় স্লোভাকিয়াও হাঙ্গেরির অবস্থানকে সমর্থন দেয়।
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ‘দ্রুজবা’ পাইপলাইন এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। যুদ্ধের সময় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে ইউক্রেন দাবি করলেও, হাঙ্গেরির অভিযোগ ছিল এটি পরিকল্পিতভাবে অবহেলিত করা হয়েছে। এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়, যা হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার জ্বালানি চাহিদার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হাঙ্গেরির তেল কোম্পানি এমওএল জানিয়েছে যে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং এটি দ্রুতই হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় পৌঁছাতে পারে।
এই পুরো পরিস্থিতি একদিকে যেমন ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে, অন্যদিকে যুদ্ধকালীন অর্থনীতি এবং জ্বালানি নির্ভরতার জটিল সম্পর্ককেও আরও স্পষ্ট করেছে। ইউক্রেনের জন্য বড় এই ঋণ সহায়তা যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এর পেছনে রাশিয়ার সম্পদ জব্দ ও নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার ব্যবহার ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

