ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে এবার দেখা গেছে অত্যন্ত উচ্চ ভোটার উপস্থিতি। ভোট গ্রহণ শুরুর মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যে গড়ে প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে ৭৮.৭৭ শতাংশ। শুরু থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়, যা এবারের নির্বাচনের প্রতি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে তুলে ধরে।
জেলাভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। বিশেষ করে সামশেরগঞ্জ আসনে ভোটের হার পৌঁছেছে ৮৭.৫৩ শতাংশে, যা পুরো দফার মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া লালগোলা এবং ভগবানগোলা আসনেও ভোটদানের হার ছিল যথাক্রমে প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং ৮৪ শতাংশ, যা তুলনামূলকভাবে খুবই বেশি।
অন্যদিকে কিছু জেলায় ভোটদানের হার তুলনামূলক কম ছিল। যেমন বীরভূমে ৬৩.৯৩ শতাংশ, পুরুলিয়ায় ৫৯.৮৩ শতাংশ এবং দার্জিলিংয়ে ৫৯.৮১ শতাংশ ভোট পড়ে। ফলে একই রাজ্যের ভেতরেও ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে।
অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে ঝাড়গ্রামে ৮১.০৪ শতাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৮১.০৭ শতাংশ, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮১.৪৯ শতাংশ এবং আলিপুরদুয়ারে ৭৭.৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার ও বাঁকুড়াতেও ভোটদানের হার ৭৭ থেকে ৭৯ শতাংশের মধ্যে ছিল।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নন্দীগ্রাম আসনেও ভোটের হার ছিল উল্লেখযোগ্য। সেখানে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৮১.৩ শতাংশ, যেখানে রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তবে ভোটের দিনটি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ ছিল না। কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে হাতাহাতি ও ইট ছোঁড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে, যদিও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটে একদিকে যেমন ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে, অন্যদিকে কিছু এলাকায় উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে কিছুটা অস্থির করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এত উচ্চ ভোটার উপস্থিতি সাধারণত পরিবর্তনের প্রত্যাশা বা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার তীব্রতা নির্দেশ করে, যা এবারের নির্বাচনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।

