মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, তারা নতুন করে আক্রমণ শুরু করতে প্রস্তুত, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার বক্তব্যে আরও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যৎ যেকোনো হামলা আগের তুলনায় ভিন্ন কৌশলে পরিচালিত হবে এবং এমন স্থানে আঘাত হানা হবে, যেখানে প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর আগে চালানো হামলাগুলোতে ইরান ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ আরও বিস্তৃত ও লক্ষ্যভিত্তিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য কেবল সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিতই নয়, বরং কূটনৈতিক চাপ তৈরির অংশও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কারণ তাদের সমর্থন বা বিরোধিতার ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে।
এদিকে, এমন ঘোষণা পুরো অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা আগেই চরমে পৌঁছেছিল, আর নতুন করে হামলার সম্ভাবনা সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই ধরনের হিসাব-নিকাশই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী হয় এবং সেটি এই সম্ভাব্য সংঘাতের গতিপথকে কোন দিকে নিয়ে যায়।

