লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ওভাল অফিস থেকে এ ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ট্রাম্প ওভাল অফিসে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াওয়াদকে আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকটি ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ভবিষ্যতে একটি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সাল থেকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাত চলমান রয়েছে, যা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
যদিও গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষই একাধিকবার তা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে, তবুও নতুন করে সময় বাড়ানোকে আলোচনার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একটি বার্তায় ট্রাম্প জানান, তিনি খুব শিগগিরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় আছেন। এতে করে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হুমকি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে লেবাননকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল সাময়িক শান্তির সুযোগই তৈরি করেনি, বরং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও জোরদার করেছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হলে উভয় পক্ষকেই বাস্তবিক সংযম ও আস্থা বজায় রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক সংকেত হলেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

