মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবার রাশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক দেশ সফর করেছেন আরাগচি, যা বিশ্লেষকদের মতে একটি সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ। তার এই সফর শুরু হয় পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে। এরপর তিনি ওমানের মাস্কাটে যান এবং পুনরায় ইসলামাবাদে ফিরে আসেন। এই ধারাবাহিক সফরের পরই তিনি রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
মিডল ইস্ট আই-এর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় এই বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ-ও উপস্থিত থাকবেন। ফলে বৈঠকটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে তারা অঞ্চলে নিজেদের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে তেহরান।
এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। আরাগচি নিজেই জানিয়েছেন, এই প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের কৌশলগত মিত্র হিসেবে পরিচিত। তাই এই সফরের মাধ্যমে তেহরান মস্কোর রাজনৈতিক সমর্থন আরও দৃঢ় করতে চায় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, একের পর এক কূটনৈতিক সফর এবং বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ইরান আসন্ন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আলোচনার আগে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে চাইছে।
সিভি/এইচএম

