মধ্যপ্রাচ্যে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই বড় ধরনের মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরান-এর সঙ্গে চলমান সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হবে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই এতে বিজয়ী হবে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং আলোচনার পথও খোলা রয়েছে। তার ভাষায়, তেহরান যদি সত্যিই সমাধান চায়, তাহলে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতের আলোচনা সরাসরি বৈঠকের বদলে টেলিফোনের মাধ্যমেও এগোতে পারে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ইরানের আলোচক দলের মধ্যে কেউ কেউ বাস্তববাদী হলেও, সবাই একই অবস্থানে নেই। তবুও তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত ইরান “বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত” নেবে এবং সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী হবে।
এই সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্রে থাকছে পারমাণবিক ইস্যু—যা বহুদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রধান বিরোধের কারণ। ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র এই ইস্যুতে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়, বরং এটিকেই আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে রাখতে চায়।
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দক্ষিণ এশিয়ার প্রসঙ্গও টানেন। পাকিস্তান-এর শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি তাদের “চমৎকার” ও “সম্মানযোগ্য” বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ওই সংঘাতে ১১টি বিমান ভূপাতিত হয়েছে।
ওয়াশিংটনে সাম্প্রতিক গুলির ঘটনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, হামলাকারীর পরিবার আগে থেকেই জানত যে ওই ব্যক্তি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার ম্যানিফেস্টো পর্যালোচনা করে ট্রাম্পের মতে, তিনি ছিলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য একদিকে যেমন সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে আবার যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট করছে। এখন দেখার বিষয়—কূটনৈতিক কথাবার্তা বাস্তব কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারে কি না, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়বে।
সিভি/এইচএম

