মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে আবারও তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ বা শর্ত আরোপ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের অধিকার কোনো একক দেশের হাতে থাকতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কে এই পথ ব্যবহার করবে, তা ইরান ঠিক করবে—এটি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এই বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালি-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা অস্থিরতা বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রুবিওর অভিযোগ, ইরান এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চাচ্ছে যেখানে প্রণালিটি ব্যবহার করতে হলে অন্যান্য দেশকে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, এমনকি অনুমতি নিতে হবে। তার মতে, এটি আসলে উন্মুক্ত পথের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, “তারা যখন বলে প্রণালি খুলে দেবে, এর মানে দাঁড়ায়—আপনাকে তাদের নিয়ম মেনে চলতে হবে, না হলে হামলার ঝুঁকি থাকবে এবং অর্থও দিতে হতে পারে।”
অন্যদিকে, ইরানের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। তেহরান বলছে, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। তাদের দাবি, যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়, তবে তারা আবার প্রণালিটি স্বাভাবিকভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে।
তবে এই প্রস্তাবকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে দেখছেন না রুবিও। তার মতে, এটি মূলত একটি কৌশল, যার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক জলপথে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই টানাপোড়েন শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে এই ইস্যুতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
সিভি/এইচএম

