ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালেও তাদের বাহিনীকে একাধিক ফ্রন্টে সক্রিয় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই থাকতে হতে পারে। ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই তিনি এই মন্তব্য করেন। বিষয়টি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া।
সোমবার, ২৭ এপ্রিল দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়াল জামির বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী একটি ধারাবাহিক এবং বহুমুখী সামরিক অভিযানে যুক্ত রয়েছে। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি কোনো স্বল্পমেয়াদি সংঘাত নয়, বরং ধীরে ধীরে বিস্তৃত এক দীর্ঘ যুদ্ধের বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। তিনি আরও মনে করেন, ২০২৬ সালও একইভাবে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধের বছর হিসেবে অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই ঘটনার পর থেকেই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিয়েছে। তার মতে, ওই সময় থেকে শুরু হওয়া সংঘাত এখন শুধু একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একাধিক ভূরাজনৈতিক ও সামরিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইসরাইলি সেনাপ্রধান আরও জানান, সামনের দিনগুলোতে বাড়তে থাকা সামরিক চাহিদা মোকাবিলার জন্য দ্রুত সেনা নিয়োগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর ওপর যে অতিরিক্ত দায়িত্ব ও চাপ আসবে, তা সামাল দিতে হলে জনবল বৃদ্ধি এখনই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু বর্তমান সংঘাতের বাস্তবতাকেই তুলে ধরে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার একটি সম্ভাব্য চিত্রও ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে ইরান, হিজবুল্লাহ এবং গাজা অঞ্চলের পরিস্থিতি মিলিয়ে যে নিরাপত্তা সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা সহজে শান্ত হওয়ার লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে না।
সিভি/এইচএম

