মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে বলেছে, স্বাধীন দেশগুলোর ওপর নিজেদের নীতি চাপিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থানে এখন আর ওয়াশিংটন নেই।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক এই মন্তব্য করেন এমন এক সময়ে, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বর্তমান বৈশ্বিক ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখন আর স্বাধীন দেশগুলোর ওপর নিজেদের নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই।” একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে “অবৈধ ও অযৌক্তিক দাবি” থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
বর্তমান সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান কার্যত এই কৌশলগত জলপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ফলে এই প্রণালি এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কিছুটা উত্তেজনা কমিয়েছে, তবুও ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের কোনো অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয়। এই অচলাবস্থার মধ্যেই ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্তে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব বর্তমানে পর্যালোচনা করছে।
এদিকে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকের আগে তালায়ি-নিক আরও জানান, ইরান স্বাধীন দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে এই জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সক্ষমতা ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তেহরান শুধু আঞ্চলিক নয়, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক জোটের মধ্যেও নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থান শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি বড় কৌশলগত ইঙ্গিত। তারা মনে করেন, বিশ্ব রাজনীতিতে একক আধিপত্যের যুগ ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে, এবং ইরান সেই পরিবর্তিত বাস্তবতায় নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে।
সিভি/এইচএম

