ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফায় আজ সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ দফায় মোট ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)–এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।
তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (ভবানীপুর), মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), শশী পাঁজা (শ্যামপুকুর) এবং সুজিত বসু (বিধান নগর)। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (ভবানীপুর), স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী) এবং রূপা গাঙ্গুলী (সোনারপুর দক্ষিণ)।
নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে ভারতের নির্বাচন কমিশন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, মোট ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে ১২৩টিতে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস, আর বিজেপি জয় পেয়েছিল ১৮টি আসনে। ফলে এবারের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
এদিকে রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর একটি ভবানীপুর। এখানে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি, আর তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তাদের মুখোমুখি লড়াই এই আসনকে উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে।
২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে এবং ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা ব্যানার্জি। ২০১৬ সালেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন। তবে ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর পুনরায় ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন।
এবার তিনি ভবানীপুর আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী এই আসনে মমতাকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ভবানীপুর এখন অন্যতম হাই-ভোল্টেজ আসনে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও এ লড়াই নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে হাড্ডাহাড্ডি, যদিও কেউ কেউ মমতা ব্যানার্জির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন। আবার কিছু ভোটার পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, কে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেন তা জানা যাবে আগামী ৪ মে ঘোষিত নির্বাচনের ফলাফলে।

