পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সরকার গঠনের জন্য আসলে কতটি আসন প্রয়োজন?
এই বিধানসভায় মোট আসন সংখ্যা ২৯৪টি। এর মধ্যে কোনো দল বা জোটকে সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ১৪৮টি আসনে জয় পেতে হবে। এই সংখ্যাটিই হলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা, যাকে রাজনৈতিক ভাষায় বলা হয় “ম্যাজিক নাম্বার”। যে দল বা জোট এই সংখ্যা ছুঁতে পারবে, তারাই আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের ক্ষমতায় বসবে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি, যারা ১৮৯টি আসনে লিড করছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ১০০টি আসনে। এই ব্যবধান যদি শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তাহলে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে রাজনীতির হিসাব সব সময় সরল হয় না। অনেক ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে ফল ঘুরে যেতে পারে, আবার কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোট সরকার গঠনের পথও খুলে যেতে পারে। তাই ১৪৮ আসন শুধু একটি সংখ্যা নয়—এটি পুরো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চাবিকাঠি।
পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ২০২১ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন পেয়ে বড় জয় পেয়েছিল। বিপরীতে বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের লড়াই আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়েছে, যা চলছে কলকাতাসহ রাজ্যের ৭৭টি কেন্দ্রে। দুই দফায় অনুষ্ঠিত ভোটের পর আজকের ফলাফলই নির্ধারণ করবে—পশ্চিমবঙ্গে আবারও কি পুরোনো নেতৃত্ব ফিরবে, নাকি নতুন কোনো শক্তি ক্ষমতায় আসবে।
সব মিলিয়ে, ১৪৮ আসনের এই সীমা এখন শুধু একটি গাণিতিক হিসাব নয়—এটি রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কেন্দ্রবিন্দু।

