ভারত, বিশ্বের অন্যতম বড় চিনি উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ, সাময়িকভাবে চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্য উত্থান নিয়ন্ত্রণ করা।
ভারত সরকার জানিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নির্দেশ ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হবে। তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে—যেমন ইতোমধ্যে আংশিকভাবে রপ্তানি করা বা প্রস্তুত চালানগুলোর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া যেসব দেশের সঙ্গে ভারত খাদ্য নিরাপত্তা চুক্তি করেছে, তাদের কাছে রপ্তানিতে কোনো বাধা থাকবে না।
এ বছরের আখের ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় কম হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা মৌসুমে প্রত্যাশিত পরিমাণ বৃষ্টি হয়নি, যার ফলে আখের উৎপাদন প্রভাবিত হয়েছে। আখ কম হলে স্থানীয় বাজারে চিনির সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে এবং দামও বেড়ে যেতে পারে। এই কারণেই সরকার রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতের অর্থনীতি বড়ভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা জ্বালানি ও সার নির্ভর। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনা কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। এর পাশাপাশি ভোজ্যতেল ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের চিনি রপ্তানির পরিসংখ্যানও এই সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করে। ২০২১-২২ মৌসুমে ভারত ১ কোটি ১০ লাখ টন চিনি রপ্তানি করে নতুন রেকর্ড স্থাপন করে। পরের বছর, ২০২২-২৩ মৌসুমে তা কমে ৬৩ লাখ টনে নেমে আসে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে রপ্তানি সর্বনিম্ন পর্যায়ে আসে—মাত্র ১ লাখ টন। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪-২৫ মৌসুমে আবার কিছুটা বেড়ে ৯ লাখ টনে রপ্তানি হয়েছে।
আগামী অক্টোবর মাস থেকে আখের নতুন মৌসুম শুরু হলেও, কম ফলন ও এল নিনো-সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জের কারণে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকতে পারে। ভারত সরকার চিনি রপ্তানি বন্ধ রাখার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাইছে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ববাজারে ভারত অন্যতম প্রধান চিনি সরবরাহকারী, তাই দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি স্থগিত থাকলে অন্যান্য দেশের ক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হবে।

