ভারতের রাজস্থানের যোধপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই বোনের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ ঘটনার বিস্তারিত উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চে বড় বোন মারা যান। প্রায় দুই মাস পর ছোট বোনও প্রাণ হারান। পরিবারের দাবি, একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও ন্যায়বিচার না পাওয়ায় ছোট বোন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
নিহত দুই বোনের বাবা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ছোট বোনের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় একটি ই-মিত্র সেবা কেন্দ্রের পরিচালনাকারী মহিপাল গোপনে বড় বোনের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদে ফেলেন।
গত ১১ এপ্রিল দায়ের করা অভিযোগে মোট আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের মধ্যে শিবরাজ, গোপাল, বিজারাম, দিনেশ, মনোজ ও পুখরাজের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মহিপাল ও তার সহযোগীরা প্রায় চার বছর ধরে বড় বোনকে যৌন নির্যাতন করে আসছিল এবং ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করত। দীর্ঘদিনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০ মার্চ বড় বোন প্রাণ হারান।
ছোট বোন অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, বিচার না পেলে তিনিও আত্মহত্যা করবেন বলে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিলেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হলেও পরবর্তী এক মাসে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ বলে পরিবারের অভিযোগ।
বড় বোনের মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা ছোট বোনকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বড় বোনের ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকেও যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিতে থাকে এবং পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবে না বলে দম্ভ দেখায় বলেও অভিযোগ করেন ওই তরুণী।
শুক্রবার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি পানির ট্যাংকের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান তিনি। পরে বিষপান করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর রাজস্থানের রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যোধপুরের এমডিএম হাসপাতালের মর্গের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
প্রথমদিকে ময়নাতদন্তে আপত্তি জানালেও পরে নিহতের পরিবার তাতে সম্মতি দেয়।
মারওয়ার রাজপুত সমাজের সভাপতি হনুমান সিং খাংতা অভিযোগ করেন, পুরো তদন্তজুড়ে পুলিশ অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে। তার দাবি, পুলিশের ব্যর্থতার কারণেই দুই বোনকে প্রাণ হারাতে হয়েছে।
সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
যোধপুরের পুলিশ সুপার পি ডি নিত্য জানিয়েছেন, মহিপালসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

