চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের প্ল্যানারি অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকালে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
বিশ্ব অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উছরাল নিয়াম-ওসর, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ অংশগ্রহণ করেন।
আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা কেন্দ্রিক এ প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ও মতবিনিময়েও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এমন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সাইডলাইন বৈঠকগুলো বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো বর্তমানে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
অধিবেশনের বিরতিতে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতারা একসঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এতে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এই সম্মেলনকে বৈশ্বিক অর্থনীতি, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, ব্যবসায়ী নেতা, অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারকেরা এতে অংশ নিয়ে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতামত তুলে ধরছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৈশ্বিক পরিসরে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতেও সহায়ক হতে পারে।

