ইসরাইলের চলমান সামরিক হামলায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে লেবানন। দেশটির ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে লেবাননের ক্ষতির পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
লেবানিজ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান বাসেম এল-বাওয়াব বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলায় লেবাননের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে।
তিনি জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলো পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রয়োজন হবে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ব্যয় আরও কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুধু অবকাঠামোগত ধ্বংস নয়, যুদ্ধের প্রভাব এখন পুরো অর্থনীতিতেই ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে গেছে, পর্যটন খাত প্রায় ধসে পড়েছে এবং সরবরাহব্যবস্থাও বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের অর্থনীতি এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যাংকিং সংকটে দুর্বল হয়ে ছিল। তার ওপর নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশটিকে আরও ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও চাহিদা কমে গেছে। ফলে অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে অব্যাহত হামলার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনও হয়ে উঠেছে অনিরাপদ। বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। হাসপাতাল, সড়ক ও বিদ্যুৎব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতও মারাত্মক চাপের মধ্যে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া লেবাননের পক্ষে এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন হবে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশটি আরও গভীর মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে।

