ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর ভাষায় ইরান-কে সতর্ক করে বলেছেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।” চলমান সংঘাত নিরসন এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, নইলে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই বার্তার ঠিক আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ কৌশল নিয়েই মূলত নতুন বার্তা দিতে চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, তেহরান সম্প্রতি যে শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল, তার জবাবে ওয়াশিংটন কোনো বাস্তব ছাড় দিতে রাজি হয়নি। ফলে দুই পক্ষের আলোচনায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তেহরানের মূল প্রস্তাবের মধ্যে ছিল সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক যুদ্ধ বন্ধ, ভবিষ্যতে আর কোনো সামরিক হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা এবং ইরানের ওপর আরোপিত সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহার করা।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান নতুন করে কড়া অবস্থান নিয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুট এখনো কার্যত তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, তাদের প্রস্তাব ছিল “দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত।” তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাল্টা যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে তেহরান অত্যন্ত কঠোর বলেই মনে করছে।
ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছে ইরান তাদের অধিকাংশ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করুক এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করুক। যদিও ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ২০ বছরের জন্য ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখলে সেটিও বিবেচনা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। পরে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এবং পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

