জার্মানি-র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে ৮৪ শতাংশ জার্মান নাগরিক উদ্বিগ্ন অথবা খুবই উদ্বিগ্ন।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড আম জনটাগ’-এর জন্য পরিচালিত এই জরিপে উঠে এসেছে, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। জরিপটি পরিচালনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনসা।
জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের বড় একটি অংশ মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের জটিল সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান দিতে পারছে না। প্রায় ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সম্ভাব্য কোনো জোট সরকারই বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে না।
এই ফলাফল প্রকাশিত হলো ফ্রিডরিখ মের্ৎস নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পূর্তির সময়। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোট এবং মধ্য-বামপন্থী অংশীদারদের নিয়ে গঠিত সরকার নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপে রয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, সরকারের ব্যর্থতার দায় নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভক্ত মত দেখা গেছে। ৪২ শতাংশ মানুষ জোটে থাকা উভয় দলকেই সমানভাবে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশ সরাসরি প্রধান দল সিডিইউকে দোষারোপ করেছেন। আর ১৪ শতাংশের মতে, এসপিডির ভূমিকাই বেশি দায়ী।
একই সঙ্গে জরিপে জার্মান রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিতও উঠে এসেছে। অতি ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি-র প্রতি সমর্থন ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যদিও ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা এএফডির সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতা চান না, তবু দলটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় মূলধারার রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে জার্মানির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তথাকথিত “ফায়ারওয়াল” নীতি অনুসরণ করছে। এই নীতির মাধ্যমে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট বা রাজনৈতিক সমঝোতা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা এই নীতি তুলে নেওয়ার পক্ষে।
বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, অভিবাসন সংকট এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই সাধারণ মানুষের হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রায় ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার যদি কর সংস্কার ও সামাজিক খাতের পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়, তাহলে মের্ৎস সরকারের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে। এই ফলাফল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জার্মান রাজনীতিতে আগামী দিনগুলো আরও কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।

