আফ্রিকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য ইবোলা বহু বছর ধরেই এক ভয়াবহ নাম। প্রায় ৫০ বছর ধরে এই ভাইরাস কখনো বড় আকারে, কখনো সীমিত পরিসরে ফিরে এসেছে। নতুন করে কঙ্গোতে ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ আবার সামনে এসেছে। দেশটিতে ইতোমধ্যে ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি উগান্ডায়ও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ইবোলা শুধু একটি সংক্রামক রোগ নয়; এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক আচরণ, দাফনসংস্কৃতি, সংঘাতপূর্ণ এলাকা এবং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বড় সংকট। এ পর্যন্ত এই ভাইরাস ১৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ নিয়েছে। কিছু ধরনের বিরুদ্ধে টিকা ও চিকিৎসা থাকলেও ইবোলা এখনো বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ভাইরাস হিসেবে বিবেচিত।
ইবোলার শুরু কোথায়
ইবোলা প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে, বর্তমান গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে। সে সময় দেশটি জাইর নামে পরিচিত ছিল। ভাইরাসটির বৈজ্ঞানিক নাম অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স। এটি ফিলোভিরিডি পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের ভাইরাসগুলোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলো মানুষের শরীরে তীব্র জ্বর ও দ্রুত অবনতি ঘটাতে পারে।
কঙ্গোর উত্তরাঞ্চলে ইবোলা নদীর কাছে প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ভাইরাসটির নাম রাখা হয় ইবোলা। সেই ছোট ভৌগোলিক পরিচয়ই পরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের প্রতীকে পরিণত হয়।
এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন শনাক্ত হয়েছে। এগুলো হলো জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। ২০১৪ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের সঙ্গে জড়িত ছিল জাইর ধরনটি। তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে বুন্ডিবুগিও ধরনের উপস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ এই ধরনের বিরুদ্ধে এখনো নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা নেই।
কীভাবে মানুষের শরীরে আসে এই ভাইরাস
ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে ফলখেকো বাদুড়কে ধরা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাদুড় নিজে সাধারণত অসুস্থ না হয়েও ভাইরাস বহন করতে পারে। ফলে প্রকৃতির ভেতরে ভাইরাসটি দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে এবং সুযোগ পেলে অন্য প্রাণী বা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
শুধু বাদুড় নয়, বনমানুষ, হরিণ ও সজারুর মতো প্রাণীর মাধ্যমেও ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে আসতে পারে। বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী শিকার, খাদ্যাভ্যাস ও মানুষের ক্রমবর্ধমান বসতি বিস্তার এই ঝুঁকিকে আরও বাড়ায়।
মানুষের মধ্যে ইবোলা ছড়ায় মূলত সরাসরি ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, মল, শরীরের তরল বা সংক্রমিত মৃতদেহের সংস্পর্শে এলে অন্য ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মৃতদেহ স্পর্শ করার সামাজিক রীতি অনেক এলাকায় সংক্রমণ ছড়ানোর বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাতাসে ছড়ায় না, তবু এত ভয় কেন
ইবোলা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। এই কারণে এটি অনেক শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাসের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে না। কিন্তু সমস্যা হলো, একবার কেউ আক্রান্ত হলে তার মৃত্যুঝুঁকি অত্যন্ত বেশি হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ছিল ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ সংক্রমিত মানুষের একটি বড় অংশ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং যথাসময়ে চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো, ইবোলা শুধু নতুন সংক্রমণ থেকেই ফিরে আসে না। বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচারে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ভাইরাসটি সুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যক্তির শরীরে বছরের পর বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। পরে কোনো এক সময় আবার সক্রিয় হয়ে নতুন প্রাদুর্ভাব ঘটাতে পারে। এই বৈশিষ্ট্য ইবোলাকে আরও জটিল করে তোলে।
লক্ষণ শুরু হয় কখন
ইবোলা ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শুরুতে লক্ষণগুলো অনেক সাধারণ রোগের মতো মনে হতে পারে। জ্বর, ক্লান্তি, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা দেখা দেয়। এই পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন, কারণ উপসর্গগুলো ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড বা অন্যান্য জ্বরের সঙ্গে মিলে যেতে পারে।
পরে রোগ দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, ত্বকে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হয়। এ কারণেই ইবোলাকে এত ভয়ংকর মনে করা হয়।
যারা রোগ থেকে বেঁচে যান, তাদেরও অনেকের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দেখা দেয়। আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাত, চোখের প্রদাহ, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা এবং শ্রবণজনিত জটিলতা তাদের জীবনমান কমিয়ে দিতে পারে।
টিকা ও চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা
ইবোলার বিরুদ্ধে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অগ্রগতি হলেও তা সব ধরনের জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়। বর্তমানে কেবল জাইর ধরনের ইবোলার জন্য অনুমোদিত টিকা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কের এরভেবো এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের সাবডেনো।
২০২২ সালের শেষ দিক থেকে সুদান ধরনের ইবোলার জন্য তিনটি সম্ভাব্য টিকার পরীক্ষা চলছে। কিন্তু বুন্ডিবুগিও ধরনের জন্য এখনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে এই বিষয়টি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি।
জাইর ধরনের বিরুদ্ধে দুটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি চিকিৎসা ব্যবস্থাও রয়েছে, যা মৃত্যুহার কমাতে সাহায্য করে। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে এগুলো সহজলভ্য নয়। বাস্তব পরিস্থিতিতে রোগীদের বাঁচাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে দ্রুত শনাক্তকরণ, আলাদা রাখা, শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষা, রক্ত সঞ্চালন এবং সহায়ক চিকিৎসা।
ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব
ইবোলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব শুরু হয় ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে, দক্ষিণ গিনিতে। পরে তা পশ্চিম আফ্রিকার বড় অংশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন ও গিনিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সে সময় ২৯ হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মারা যান। এই প্রাদুর্ভাব বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়, একটি সংক্রামক রোগ দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, দারিদ্র্য, সীমান্ত চলাচল ও জনআস্থার সংকটের সঙ্গে মিলে কত বড় বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।
২০১৬ সালের মার্চে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ওই মহামারির সমাপ্তি ঘোষণা করে। কিন্তু ইবোলা সেখানেই শেষ হয়নি। বরং পরে বারবার ফিরে এসে দেখিয়েছে, শুধু প্রাদুর্ভাব থামানো যথেষ্ট নয়; ভাইরাসের উৎস, নজরদারি, স্থানীয় আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।
কঙ্গো কেন বারবার আক্রান্ত হয়
১৯৭৬ সালের পর থেকে ডিআর কঙ্গোতে ১৫ বারেরও বেশি ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব ঘটে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। তখন প্রায় ৩ হাজার ৫০০ আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ মারা যান। সাম্প্রতিক সময়েও ২০২৫ সালের আগস্টে সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবে অন্তত ৩৪ জন প্রাণ হারান।
কঙ্গোর ক্ষেত্রে সমস্যা শুধু ভাইরাস নয়। দেশটির অনেক অঞ্চল দুর্গম, স্বাস্থ্যসেবা সীমিত, রাজনৈতিক অস্থিরতা আছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা আছে এবং কিছু এলাকায় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি অবিশ্বাসও দেখা যায়। এসব কারণে সংক্রমণ শনাক্ত, রোগী আলাদা করা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং টিকা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
১৭তম প্রাদুর্ভাব কেন বেশি উদ্বেগের
১৭ মে ২০২৬ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলার প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
আফ্রিকার রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৩৬টি সন্দেহজনক সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা শুধু স্বাস্থ্যসংকটের চিত্রই দেখায় না; এটি ইঙ্গিত দেয়, সংক্রমণ শনাক্তের আগেই হয়তো বহু মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।
ইতুরি প্রদেশের পরিস্থিতি আরও জটিল। সেখানে মানুষের চলাচল স্বাভাবিকভাবেই বেশি। স্বর্ণের খনি নিয়ে বিরোধ আছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিরাপদ করে তুলেছে। এমন পরিবেশে চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপদে কাজ করা কঠিন, রোগী শনাক্ত করা কঠিন, এমনকি আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের খুঁজে বের করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা বোঝায়, বিষয়টি শুধু কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ সংকট নয়; আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ।
বুন্ডিবুগিও ধরন নিয়ে ভয় কোথায়
বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলার জন্য কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। নির্দিষ্ট চিকিৎসাও নেই। এই ধরনের সংক্রমণে মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে প্রচলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা, দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নজরদারিই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
এখানে একটি বড় শিক্ষা হলো, ইবোলার সব ধরনকে একইভাবে দেখা যাবে না। এক ধরনের বিরুদ্ধে টিকা থাকলেই অন্য ধরনের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়ে যায় না। তাই গবেষণা, টিকা উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
কেন ইবোলা নির্মূল করা কঠিন
ইবোলা নির্মূল করা কঠিন হওয়ার কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত, ভাইরাসটির প্রাকৃতিক বাহক বন্যপ্রাণীর মধ্যে থাকে। অর্থাৎ মানুষের সংক্রমণ বন্ধ হলেও প্রকৃতিতে ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সুস্থ হয়ে যাওয়া মানুষের শরীরে ভাইরাস সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে বলে নতুন প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয় না।
তৃতীয়ত, আফ্রিকার অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্বল। দ্রুত পরীক্ষা, সুরক্ষা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং জনসচেতনতা সব জায়গায় সমানভাবে নেই।
চতুর্থত, সামাজিক রীতি ও জনআস্থার বিষয়টি বড়। কেউ অসুস্থ হলে পরিবার অনেক সময় হাসপাতালে নিতে দেরি করে। কেউ কেউ রোগ লুকায়। আবার মৃতদেহ স্পর্শ করার ধর্মীয় বা সামাজিক রীতিও সংক্রমণ বাড়াতে পারে।
পঞ্চমত, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন না। রোগী শনাক্তের আগেই মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যায়। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়।
বৈশ্বিক বার্তা কী
ইবোলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কোনো সংক্রামক রোগকে শুধু একটি দেশের সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। আজ কঙ্গোর কোনো দুর্গম অঞ্চলে শুরু হওয়া সংক্রমণ সীমান্ত, চলাচল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ফাঁকফোকর পেরিয়ে বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।
তাই প্রয়োজন দ্রুত সতর্কতা, স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন, নিরাপদ চিকিৎসা, স্বচ্ছ তথ্যপ্রবাহ এবং গবেষণায় বিনিয়োগ। শুধু জরুরি অবস্থায় ব্যবস্থা নিলে হবে না; প্রাদুর্ভাবের মাঝের সময়েও প্রস্তুতি ধরে রাখতে হবে।
ইবোলা বারবার ফিরে আসে, কারণ ভাইরাসটি প্রকৃতিতে টিকে থাকে, মানুষের আচরণের সুযোগ নেয়, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আঘাত করে এবং কখনো কখনো সুস্থ মানুষের শরীরেও লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই এর বিরুদ্ধে লড়াই শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের নয়; এটি সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক লড়াইও।
সিভে/এইচএম

