লেবাননের রাজনীতিতে হিজবুল্লাহর অস্ত্র প্রশ্ন নতুন কোনো বিতর্ক নয়। বহু বছর ধরে দেশটির সরকার, পশ্চিমা শক্তি এবং আঞ্চলিক পক্ষগুলো এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। কিন্তু প্রতিবারই বাস্তবতা একই জায়গায় এসে আটকে যায়। লেবানন কি রাষ্ট্রের বাইরে আরেক শক্তিশালী সশস্ত্র শক্তিকে মেনে নিয়ে চলবে, নাকি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে?
চলতি বছরের শুরুতে মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিনের এই জটিল প্রশ্নে লেবানন হয়তো কিছুটা এগোতে শুরু করেছে। ইরান–সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার আলোচনায় নতুন গতি দেখা যাচ্ছিল। নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছিল। কিন্তু সীমান্তে যুদ্ধ, ইসরায়েলের হামলা, ইরানের আঞ্চলিক হিসাব এবং লেবাননের অভ্যন্তরীণ ভয়ের কারণে সেই সম্ভাবনা এখন প্রায় থেমে গেছে।

হিজবুল্লাহ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়। এটি লেবাননের ভেতরে একটি শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, গোষ্ঠীটি বহু ক্ষেত্রে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর চেয়েও বেশি সংগঠিত ও প্রভাবশালী। তাই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রশ্নটি কেবল অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইরানের প্রভাব, শিয়া সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অবস্থান, ইসরায়েল–লেবানন সীমান্তের নিরাপত্তা, গৃহযুদ্ধের স্মৃতি এবং দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে বড় সংঘাতের ধারা শুরু হয়, তার প্রভাব হিজবুল্লাহর ওপরও পড়ে। ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা একে একে চাপের মুখে পড়ে। হিজবুল্লাহও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়। গত তিন বছরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ দুই দফা যুদ্ধে জড়িয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত যুদ্ধবিরতিতে প্রথম সংঘাত থেমে যায়। তখন লেবানন, পশ্চিমা দেশ এবং কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্য সরকার মনে করেছিল, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য এটি হয়তো একটি বিরল সুযোগ।
যুদ্ধবিরতির ধারণা ছিল, ইসরায়েল সীমান্তসংলগ্ন লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহ ধীরে ধীরে অস্ত্র সরাবে বা সমর্পণ করবে। বিনিময়ে ইসরায়েল লেবাননের ভেতরে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে। কাগজে-কলমে এই পরিকল্পনা যুক্তিসংগত মনে হলেও বাস্তবে তা দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।
২০২৫ সালের শুরুতে লেবাননে নতুন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুটি আবার সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের মন্ত্রিসভা গত আগস্টে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয়, বছরের শেষ নাগাদ হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা তৈরি করতে। সেপ্টেম্বরে সেই পরিকল্পনা পর্যালোচনার সময় হিজবুল্লাহ–সমর্থিত মন্ত্রীরা বৈঠক বর্জন করেন। তাদের যুক্তি ছিল, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র হলে লেবানন ইসরায়েলের সামনে অরক্ষিত হয়ে পড়বে।
তবুও তখন কিছু অগ্রগতি দেখা যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি ও লেবাননি কর্মকর্তারা দক্ষিণ লেবাননের একটি জাতিসংঘ ঘাঁটিতে নিয়মিত বৈঠক করছিলেন। অক্টোবর মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, আগের এক বছরে লেবাননের সেনাবাহিনী দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় ১০ হাজার রকেট এবং প্রায় ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নিয়েছে। জানুয়ারিতে লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সরানোর প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। ইসরায়েল এটিকে ভালো শুরু বললেও যথেষ্ট মনে করেনি।
এরপর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর পুরো প্রক্রিয়া থমকে পড়ে। মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হিজবুল্লাহ ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের ওপর হামলা শুরু করে। কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বোঝা যায়, হিজবুল্লাহর কাছে এখনো উল্লেখযোগ্য রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও নতুন ধরনের চালকবিহীন আক্রমণক্ষম উড়োজাহাজ রয়েছে, যেগুলো প্রতিরোধ করা আগের চেয়ে কঠিন।
ইসরায়েলও পাল্টা জবাবে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান বাড়ায়। এতে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়, বিভিন্ন এলাকা ধ্বংস হয় এবং দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই বাস্তবতা হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। কারণ যুদ্ধ যত বাড়ছে, হিজবুল্লাহ তত বেশি নিজেদের অস্ত্রকে প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয় উপায় হিসেবে তুলে ধরছে।

এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসন যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল, সেটিও এখন কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। সোমবার ইসরায়েল সরকার বৈরুতের দক্ষিণে আবার বোমা হামলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। একই সময়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনা ও বসতির ওপর নতুন হামলার দাবি করে। ফলে যুদ্ধবিরতি বাস্তবের চেয়ে কাগজে বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
লেবানন সরকারের অবস্থানও খুব জটিল। পশ্চিমা চাপ থাকলেও সরকার জানে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সরাসরি বলপ্রয়োগ বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ডেকে আনতে পারে। লেবাননের মানুষ এখনো ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের স্মৃতি ভুলতে পারেনি। তাই সেনাবাহিনী যদি হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডারের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, সেটি শুধু সামরিক পদক্ষেপ থাকবে না; বরং তা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং নতুন সহিংসতার দরজা খুলে দিতে পারে।
১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হিজবুল্লাহ নিজেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লেবাননের প্রধান প্রতিরোধশক্তি হিসেবে তুলে ধরে। বিশেষ করে দক্ষিণ সীমান্তে তাদের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী। গোষ্ঠীটির নেতারা বলে আসছেন, লেবাননকে রক্ষা করতে এবং শিয়া মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার টিকিয়ে রাখতে তাদের অস্ত্র প্রয়োজন। লেবাননের প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শিয়াদের বড় অংশ হিজবুল্লাহকে নিজেদের রাজনৈতিক রক্ষাকবচ হিসেবে দেখে। ফলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া মানেই অনেকের চোখে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এই ধারণাটিই লেবানন সরকারের জন্য বড় বাধা।
আরেকটি বড় কারণ ইরান। হিজবুল্লাহর সামরিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক শক্তির কেন্দ্রে রয়েছে তেহরানের সমর্থন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব যদি বড়ভাবে দুর্বল না হয়, তাহলে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ছাড়ার সম্ভাবনা খুব কম। এক বছরেরও কম সময়ে ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুটি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী এখনো ক্ষমতায় দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। ছবির বর্ণনায় বলা হয়েছে, আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। এই ধরনের পরিবর্তনও হিজবুল্লাহর অবস্থানকে সরাসরি বদলে দেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক লিনা খতিবের মূল্যায়ন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে হলে লেবাননকে আসলে ইরানের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের অপেক্ষা করতে হবে। কারণ হিজবুল্লাহর শক্তির মূল উৎস লেবাননের ভেতরে যতটা, তার বাইরেও ততটাই।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বারবার ১৯৮৯ সালের তাইফ চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। ওই চুক্তি লেবাননের গৃহযুদ্ধ শেষ করেছিল এবং সব মিলিশিয়াকে অস্ত্র ছাড়ার কথা বলেছিল। সালাম বলেছেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রশ্নে লেবানন ৩০ বছরেরও বেশি সময় পিছিয়ে আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত আর মাঠের শক্তির মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।

লেবাননের আরেক দাবি হলো, ইসরায়েল আগে তাদের ভূখণ্ড থেকে সেনা সরিয়ে নিক। তারপর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কার্যকর আলোচনা হতে পারে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ডেভিড শেংকারের মতে, লেবানন সরকার যদি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে চায়, তাহলে জনগণকে দেখাতে হবে যে, এর বিনিময়ে দেশ কিছু পাচ্ছে। অর্থাৎ নিরস্ত্রীকরণকে শুধু চাপ হিসেবে নয়, জাতীয় স্বার্থের অংশ হিসেবে দেখাতে হবে।
কিন্তু সেই পথও সহজ নয়। লেবাননের সেনাবাহিনী বর্তমানে জনবল, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ ঘাটতিতে ভুগছে। হিজবুল্লাহর মতো শক্তিশালী সংগঠনের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিতে হলে বাহিনীটিতে বড় ধরনের সংস্কার দরকার। এর জন্য অর্থ প্রয়োজন। কিন্তু সম্ভাব্য অর্থদাতা উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেরাই আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাব সামলাচ্ছে। আবার আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার জন্য যে অর্থনৈতিক ও রাজস্ব সংস্কার দরকার, লেবানন এখনো তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র নয়জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাদের মধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যও ছিলেন। অভিযোগ ছিল, তারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞা দেখায়, ওয়াশিংটন এখন লেবাননের ওপর চাপ বাড়াতে চায়। তবে চাপ বাড়ালেই যে লেবানন বাস্তব পদক্ষেপ নিতে পারবে, তা নিশ্চিত নয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। হিজবুল্লাহ ও ইরান উভয়ই এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছে। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা নানা পরিকল্পনা দিয়েছেন। কেউ কেউ উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার আদলে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের কথাও বলেছেন, যা পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ তদারকি করবে।
এপ্রিল মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় লেবাননের সেনাবাহিনী নিজেই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। অন্যদিকে কেউ কেউ বিদেশি সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়ে লেবানন সরকারকে চাপ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু লেবাননের বাস্তবতা শুধু বাইরের চাপ দিয়ে বদলানো কঠিন। কারণ সংকটটি একই সঙ্গে সামরিক, রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক।
হিজবুল্লাহর মুখপাত্র হাজ্জ ইউসুফ আল-জেইন মে মাসে সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েলিরা বিস্মিত হয়েছে, আমেরিকানরাও বিস্মিত হয়েছে, প্রতিরোধ বাহিনীর সক্ষমতা দেখে পুরো বিশ্ব বিস্মিত হয়েছে। এই বক্তব্য হিজবুল্লাহর আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এটি লেবানন সরকারের জন্যও বার্তা—গোষ্ঠীটি এখন অস্ত্র ছাড়ার জায়গায় নেই।
সব মিলিয়ে লেবানন এখন এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন, অন্যদিকে গৃহযুদ্ধের ভয়। একদিকে ইসরায়েলের সামরিক চাপ, অন্যদিকে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব। একদিকে পশ্চিমা কূটনৈতিক চাপ, অন্যদিকে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা।
হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার সবচেয়ে বড় সুযোগ কেন ব্যর্থ হলো, তার উত্তর তাই একক কোনো ঘটনায় নেই। এটি ব্যর্থ হয়েছে কারণ যুদ্ধবিরতি টেকেনি, ইসরায়েলি হামলা থামেনি, ইরানের প্রভাব কমেনি, লেবাননের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা শক্তিশালী হয়নি এবং দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক ভারসাম্যের ভয় কাটেনি।
লেবাননের সামনে এখন মূল প্রশ্ন হলো, দেশটি কি এই সংকটকে আরও দীর্ঘদিন এড়িয়ে যাবে, নাকি রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্রের মতো দাঁড়িয়ে থাকা শক্তির প্রশ্নে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেবে। সিদ্ধান্ত যাই হোক, তার মূল্য কম হবে না। কিন্তু সিদ্ধান্ত না নেওয়ার মূল্যও লেবানন বহু বছর ধরে দিয়ে আসছে।

