যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। স্থানীয় সূত্রগুলো আশঙ্কা করছে, ধ্বংসস্তূপ সরানো ও আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সিটির একটি এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষজন যখন আনন্দ উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন, তখন হঠাৎ করেই একটি তাঁবুকে লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো এলাকা আতঙ্ক, ধোঁয়া ও আর্তনাদে ভরে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার সময় সেখানে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনুষ্ঠানস্থলের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসাবশেষ। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমটির গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলেও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলায় এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা আহতদের জীবন বাঁচাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে আগে থেকেই চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট থাকায় নতুন করে আহতদের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের কারণে গাজার বেসামরিক জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। আবাসিক এলাকা, স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র ও জনসমাগমস্থলের পর এবার বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গাজায় চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে হাজার হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রাণহানির খবর আসছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতি ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সর্বশেষ এই হামলা আবারও প্রমাণ করেছে যে, সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। যে অনুষ্ঠানে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখার কথা ছিল, সেই বিয়ের আসরই মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয়েছে শোক ও কান্নার মঞ্চে।

