সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আরও আক্রমণাত্মক কৌশলে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে দেশটি। সূত্র: ডন, সামা টিভি
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকি মোকাবিলায় ইরান তার সামরিক অবস্থান আরও আক্রমণাত্মক করবে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ইরানি বাহিনী কয়েকটি ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অভিযান’ পরিচালনা করেছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আকরামিনিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও হামলা থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর এই বক্তব্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইরানের সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে ইরানের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা প্রবেশ করলে তাদের আটককারীকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার বলেও জানিয়েছেন আকরামিনিয়া। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা দেওয়া হলো।
ইরানের সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, দেশটি নতুন সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে এবং যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম পাওয়া গেছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন কতটা এগিয়েছে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন অবস্থান জানিয়েছে ইরান। আকরামিনিয়া বলেন, এই প্রণালিতে প্রবেশের আগে জাহাজগুলোকে ইরানের নজরদারির আওতায় থাকতে হবে। ইরানের অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল জাহাজগুলোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় আরও আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থান নেওয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে নিজেদের পরবর্তী কৌশলের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান।

