নেপালে ভূমিকম্পের পর তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, তারা মোট ৩৮৪ জন পর্যটককে নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় যুক্তরাজ্যের ১২ জন নাগরিকও রয়েছেন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, দুর্যোগকবলিত অঞ্চলে থাকা ভ্রমণকারীদের ‘অবস্থান ও নিরাপত্তার অবস্থা নিশ্চিত করতে’ কাজ চলছে।
বুধবার ভোরের দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর উত্তরে অবস্থিত রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে প্রাথমিক তথ্যের বরাতে পার্লামেন্টকে জানান নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভূমিকম্পের পর তুষারধস শুরু হয়। এর ফলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। তবে এসব তথ্য এখনো যাচাই করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খানাল বলেন, নেপালের পাশাপাশি চীনও ‘ব্যাপক ক্ষতির’ মুখে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপাল চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত নেপালের ২৬ জন পুলিশ সদস্য, নয়জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাও নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগে সড়ক, সেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ১২ জন ব্রিটিশ, ১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই), ১৭ জন মালয়েশীয়, চারজন দক্ষিণ আফ্রিকান, তিনজন আমেরিকান, একজন অস্ট্রেলীয় এবং একজন ডাচ নাগরিক রয়েছেন।
এ ছাড়া আরও ১১১ জন নিখোঁজ ব্যক্তির জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী একটি বাণিজ্য কেন্দ্রে ভূমিধসের ঘটনায় ‘ব্যাপক হতাহতের’ খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মাধ্যমিক দুর্যোগ এড়াতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং আগাম সতর্কবার্তা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
চীনা সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উদ্ধারকারী দলকে তিব্বতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

