মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা ইরানের দুটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের সামরিক বাহিনী।
রোববার (৭ জুন) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, দিনের শুরুতেই হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া দুটি ড্রোন শনাক্ত করা হয়। পরে সেগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করা হয়।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছিল। এ কারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, অঞ্চলে যেকোনো ধরনের হামলা বা আগ্রাসন মোকাবিলায় তাদের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবারও হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে আসা ইরানের চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ ঘটনার পর কয়েক দিনের ব্যবধানে মোট ছয়টি ড্রোন ধ্বংসের তথ্য সামনে এলো।
শুধু ড্রোন ভূপাতিত করাই নয়, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দুটি দ্বীপে সামরিক অভিযানও চালায়। ওই অভিযানে একটি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানা যায়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ।
অন্যদিকে তেহরান এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং চলমান উত্তেজনাকে উসকে দিচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান কুয়েত ও বাহরাইনমুখী পাল্টা হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতায় এসব হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে। ফলে এখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। যদিও উভয় পক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার কথা বলছে, তবুও ড্রোন হামলা, সামরিক অভিযান এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।

