Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, আগস্ট 26, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কেন এখন উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট
    আন্তর্জাতিক

    কেন এখন উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট

    নিউজ ডেস্কজুন 7, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরকে শুধু একটি কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি বোঝা যাবে না। কারণ, এটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্মসূচি দ্রুত এগোচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে, আর পূর্ব এশিয়ায় নিরাপত্তা সমীকরণ নতুনভাবে বদলে যাচ্ছে। সাত বছর পর চীনা প্রেসিডেন্টের পিয়ংইয়ং সফর তাই আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় বার্তা বহন করছে।

    রোববার পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা। দুই নেতার দেখা হওয়া নিজেই নতুন ঘটনা নয়। মাত্র এক বছর আগে বেইজিংয়ে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। চীন তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজন করেছিল। সেখানে কিম জং উন ও শি জিনপিং একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

    তবে এবারের ঘটনাটি আলাদা। কারণ, এবার শি নিজেই উত্তর কোরিয়ায় যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা প্রেসিডেন্ট বিদেশ সফর অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। বিশ্বের বড় নেতারাও সাধারণত এখন বেইজিংয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এমন বাস্তবতায় শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফর বুঝিয়ে দেয়, উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে বেইজিংয়ের উদ্বেগ ও আগ্রহ দুটোই বেড়েছে।

    ২০১৯ সালের পর শি জিনপিং পিয়ংইয়ং সফরে যাননি। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তিনি বছরে গড়ে প্রায় ১৪টি বিদেশ সফর করতেন। কিন্তু ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তা কমে বছরে প্রায় ছয়টিতে নেমে আসে। ২০২০ সালে তিনি মাত্র একটি বিদেশ সফর করেন, আর ২০২১ সালে করেননি কোনো বিদেশ সফর। করোনাভাইরাস মহামারির সময় চীনের ভেতরের পরিস্থিতি সামাল দিতেই তাঁর মনোযোগ বেশি ছিল। তাই এখন তাঁর উত্তর কোরিয়া সফরকে স্বাভাবিক প্রথাগত কূটনীতি নয়, বরং বিশেষ রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রশ্ন হলো, ঠিক এখন কেন শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন?

    এর একটি বড় কারণ হলো উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা। ঐতিহাসিকভাবে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল চীন। অর্থনীতি, খাদ্য, জ্বালানি, বাণিজ্য—প্রায় সব ক্ষেত্রেই পিয়ংইয়ং বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ২০২২ সালের একটি হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই চীনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার ওপর এক ধরনের প্রভাব ধরে রেখেছিল।

    কিন্তু ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর সেই পুরোনো সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং জনবল দিয়ে সহায়তা করেছে বলে পশ্চিমা ও দক্ষিণ কোরীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে। এর ফলে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্র চালু রাখতে উত্তর কোরিয়ার সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

    দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার-সমর্থিত নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির এক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে সেনা মোতায়েন, কামান, গোলা, নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানির বিনিময়ে ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যমানের অর্থ বা সুবিধা দিতে পারে। তবে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া পণ্য হিসেবে হয়তো পেয়েছে মাত্র ৫৮০ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ সহায়তা।

    এই হিসাব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে সন্দেহ তৈরি হয় যে বাকি বড় অংশটি হয়তো সাধারণ পণ্য নয়, বরং সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি, নির্ভুল যন্ত্রাংশ বা এমন উপকরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে, যা সহজে উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ে না। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা আরও দ্রুত বাড়তে পারে। আর এখানেই চীনের উদ্বেগ।

    চীন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশীদার হলেও পিয়ংইয়ংকে অতিরিক্ত সামরিকভাবে শক্তিশালী দেখতে সব সময় স্বস্তি বোধ করে না। কারণ, উত্তর কোরিয়া যদি রাশিয়ার সহায়তায় আরও আত্মবিশ্বাসী ও সামরিকভাবে সাহসী হয়ে ওঠে, তাহলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়তে পারে। এতে চীনের সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, উত্তর কোরিয়া যেন পুরোপুরি মস্কোর দিকে ঝুঁকে না পড়ে। চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার প্রধান প্রভাবশালী মিত্র ছিল। কিন্তু রাশিয়া এখন যদি পিয়ংইয়ংকে অস্ত্র, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং কূটনৈতিক সমর্থন দেয়, তাহলে উত্তর কোরিয়ার ওপর চীনের একচ্ছত্র প্রভাব কমে যেতে পারে। শি জিনপিংয়ের এই সফর তাই সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নিজের প্রভাব পুনরায় নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হতে পারে।

    এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বছরের শুরু থেকে উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। মে মাসে পিয়ংইয়ং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্দেশিত নতুন কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে বলে উত্তর কোরীয় গণমাধ্যম ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবিষয়ক গবেষণা সূত্রে জানা যায়। এমন অস্ত্র শুধু সামরিক প্রদর্শন নয়; এটি উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষারও ইঙ্গিত দেয়।

    এর পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সম্প্রতি কিম জং উনের একটি নতুন অস্ত্রমানের পারমাণবিক উপকরণ কারখানা পরিদর্শনের ছবি প্রকাশ করেছে। বলা হচ্ছে, এই কারখানা পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতা অত্যন্ত দ্রুত হারে বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই চীন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া ঘনিষ্ঠতা এই উদ্বেগকে আরও জটিল করেছে।

    উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কও এখন অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯৫০ সাল থেকে দুই কোরিয়া কার্যত যুদ্ধাবস্থায় আছে। ১৯৫৩ সালের অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ হলেও কোনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি হয়নি। দুই দেশকে আলাদা করে রেখেছে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ অসামরিক এলাকা, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫৫ মাইল।

    বছরের পর বছর দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কখনো কমেছে, কখনো বেড়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালে পরিস্থিতি নতুন পর্যায়ে যায়, যখন কিম জং উন দীর্ঘদিনের কোরীয় পুনর্মিলনের লক্ষ্য পরিত্যাগ করেন। এরপর থেকে উত্তর কোরিয়া প্রায় সব যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। এই অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়া চীনের ভূমিকার দিকে তাকিয়ে আছে। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, শি জিনপিংয়ের সফর কোরীয় উপদ্বীপের সমস্যাগুলো সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণবিষয়ক মন্ত্রী চুং দং ইয়ং গত মাসে সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি আশা করেন, শি ও কিম বছরের শেষ দিকে কিম জং উন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। তবে এমন বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বরং পিয়ংইয়ং নিজের সামরিক অবস্থানকে আরও শক্তভাবে তুলে ধরছে।

    শি জিনপিংয়ের সফরের আরেকটি পটভূমি হলো পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন পরিবর্তন। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সংলাপে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক রসদ সহায়তা চুক্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। এমন চুক্তি হলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। চীনের দৃষ্টিতে এটি উদ্বেগজনক।

    চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক ওঠানামা করলেও জাপানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত। ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে জাপানের সাম্রাজ্যবাদী দখলদারিত্ব চীনের জাতীয় স্মৃতিতে এখনো গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। তার ওপর সাম্প্রতিক সময়ে জাপান নিজের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে, যা বেইজিং সন্দেহের চোখে দেখে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যদি নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ায়, তাহলে চীন সেটিকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আঞ্চলিক চাপের অংশ হিসেবে দেখতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়া চীনের জন্য একই সঙ্গে সম্পদ ও ঝুঁকি। একদিকে পিয়ংইয়ং বেইজিংয়ের কৌশলগত বাফার। উত্তর কোরিয়া থাকায় চীনের সীমান্তে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দক্ষিণ কোরীয় সামরিক উপস্থিতি এসে দাঁড়ায় না। অন্যদিকে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক উত্তর কোরিয়া পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারে। তাই চীনের লক্ষ্য হতে পারে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং তাকে এমন সীমায় রাখা যাতে সে বেইজিংয়ের স্বার্থের বাইরে গিয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি না করে।

    শি জিনপিংয়ের সফর সেই ভারসাম্য রক্ষারই অংশ হতে পারে। তিনি কিম জং উনকে বোঝাতে চাইতে পারেন যে চীন এখনো উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদার। একই সঙ্গে তিনি হয়তো বার্তা দিতে চান, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ চীনকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়।

    অন্যদিকে কিম জং উনেরও এই বৈঠক থেকে লাভ আছে। তিনি চীনকে দেখাতে চান, উত্তর কোরিয়া এখন আর এককভাবে বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল দুর্বল রাষ্ট্র নয়। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক, পারমাণবিক সক্ষমতা এবং সামরিক সরবরাহের কারণে তাঁর দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। তাই শি জিনপিংকে পিয়ংইয়ংয়ে স্বাগত জানানো কিমের জন্য এক ধরনের কূটনৈতিক বিজয়ও হতে পারে।

    এই সফরের অর্থনৈতিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ করোনা-নিয়ন্ত্রণের পর উত্তর কোরিয়া ধীরে ধীরে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। পিয়ংইয়ং চীনের কাছ থেকে পর্যটন, সীমান্ত বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আশা করতে পারে। উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা, বিচ্ছিন্নতা ও খাদ্য সংকটের চাপে আছে। তাই চীনের সহায়তা কিম সরকারের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্যও জরুরি।

    তবে বেইজিং সতর্ক থাকবে। চীন উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ছেড়ে দিতে চায় না, আবার এমনও করতে চায় না যাতে পিয়ংইয়ং আরও বেশি সামরিকভাবে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই শি জিনপিংয়ের সফরে প্রকাশ্যে বন্ধুত্ব, ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার কথা বলা হলেও পর্দার আড়ালে আলোচনার বড় অংশ হতে পারে সামরিক সীমা, রাশিয়া-সম্পর্ক, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ।

    সব মিলিয়ে শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর পূর্ব এশিয়ার নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন। এখানে শুধু চীন-উত্তর কোরিয়া বন্ধুত্ব নেই; আছে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূমিকা, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক উপস্থিতি, দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান নিরাপত্তা ঘনিষ্ঠতা, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং চীনের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা। তাই এই সফরকে একটি সাধারণ রাষ্ট্রীয় সফর নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা উচিত।

    সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং যাওয়া তাই কেবল বন্ধুত্বের ছবি তোলার আয়োজন নয়। এটি বেইজিংয়ের একটি পরিষ্কার বার্তা—উত্তর কোরিয়া এখনো চীনের কৌশলগত হিসাবের কেন্দ্রে আছে। একই সঙ্গে এটি কিম জং উনেরও বার্তা—পিয়ংইয়ং এখন চীন ও রাশিয়ার মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যবহার করে আরও বেশি দর-কষাকষির ক্ষমতা অর্জন করতে চায়। এই সফরের পর কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমবে, নাকি নতুন শক্তি প্রতিযোগিতা আরও স্পষ্ট হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ

    আগস্ট 26, 2026
    আন্তর্জাতিক

    হামলা ঠেকাতে প্রতিরক্ষার বদলে আক্রমণাত্মক অবস্থানে ইরান

    আগস্ট 26, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির পারমাণবিক চুক্তি কংগ্রেসে পাঠালেন ট্রাম্প

    আগস্ট 26, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.