ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এই ১০০ দিন শুধু একটি যুদ্ধের সময়কাল নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য, ইরানের সামরিক সক্ষমতা, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল এবং আঞ্চলিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করা, পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো এবং দেশটির নেতৃত্ব কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এখন ১০০ দিন পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই অভিযান আসলে কতটা সফল হয়েছে, আর সামনে কী অপেক্ষা করছে?
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এটি আগের মতো সীমিত পাল্টা হামলা বা প্রতিনিধি গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংঘর্ষ ছিল না। বরং এটি ছিল সরাসরি সামরিক সংঘাত, যার লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, নৌসামরিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্ব কাঠামোকে সামনে রাখা হয়। যুদ্ধের সমর্থকদের দাবি, এই অভিযান ইরানের শক্তিকে এমনভাবে আঘাত করেছে, যা দেশটি সহজে পুনরুদ্ধার করতে পারবে না।
লেখক আদলফো ফ্রাঙ্কোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১০০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিই ছিল ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। বহু বছর ধরে তেহরান এই সক্ষমতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের সামরিক প্রভাব ধরে রেখেছিল। ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর চাপ তৈরি করার ক্ষেত্রেও এই ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ছিল ইরানের বড় ভরসা। সেই সক্ষমতা যদি সত্যিই বড় আকারে ধ্বংস হয়ে থাকে, তাহলে তা ইরানের কৌশলগত অবস্থানের জন্য বড় ধাক্কা।
শুধু ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নয়, ইরানের নৌসামরিক সক্ষমতাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের নৌবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ চলাচল করে। তাই হরমুজে চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা ছিল ইরানের অন্যতম কৌশলগত সুবিধা। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং সামরিক চাপের কারণে সেই সক্ষমতা দুর্বল হলে তেহরানের দর-কষাকষির শক্তিও কমে যায়।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এই যুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ফোর্দো, নাতানজ ও ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বহু বছর ধরে ইরান এসব স্থাপনায় বিপুল অর্থ, প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি বিনিয়োগ করেছিল। যুদ্ধের সমর্থকদের দাবি, এসব স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কার্যত থেমে গেছে। তবে এই দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক আছে। কারণ পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু ভবন বা স্থাপনার ওপর নির্ভর করে না; জ্ঞান, বিজ্ঞানী, গোপন অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মূল্যায়নকে উদ্ধৃত করে যুদ্ধের সমর্থকেরা বলছেন, ক্ষতির মাত্রা ছিল অত্যন্ত বড়। তাঁদের যুক্তি হলো, ইরান একটি প্রজন্ম ধরে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতার দিকে এগোচ্ছিল, আর এই যুদ্ধ সেই প্রকল্পকে বড়ভাবে থামিয়ে দিয়েছে। তবে সমালোচকেরা মনে করেন, কোনো পারমাণবিক কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ শেষ করে দেওয়া খুব কঠিন। সামরিক হামলা সাময়িকভাবে কর্মসূচি পিছিয়ে দিতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক সংকল্প থাকলে একটি রাষ্ট্র আবারও তা পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে।
এই যুদ্ধের সবচেয়ে নাটকীয় দাবি হলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যু। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩৭ বছর ধরে আলী খামেনি ছিলেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কেন্দ্রীয় শক্তি। তিনি শুধু রাষ্ট্রীয় নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন ইরানের আদর্শিক, সামরিক ও আঞ্চলিক কৌশলের প্রধান স্থপতি। হিজবুল্লাহ, হামাস, সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকার, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল গভীর।
যদি খামেনির মৃত্যু সত্যিই যুদ্ধের প্রথম দিনেই ঘটে থাকে, তবে তা ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা। কারণ কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায় নেতৃত্ব শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রতীক। দীর্ঘদিনের নেতা হারালে ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বদলে যায়। নতুন নেতৃত্ব কতটা শক্তিশালী, সামরিক বাহিনী কতটা ঐক্যবদ্ধ, ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ কতটা সমর্থন দিচ্ছে—এসব প্রশ্ন তখন সামনে চলে আসে।
তবে এখানেই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। একটি শাসনব্যবস্থার নেতা নিহত হলেই সেই ব্যবস্থা সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ে না। ইতিহাসে বহু কর্তৃত্ববাদী সরকার বড় আঘাতের পরও টিকে থেকেছে। আবার অনেক শাসনব্যবস্থা বাইরে থেকে শক্তিশালী দেখালেও ভেতরে ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষয় হতে থাকে। তাই ইরানের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক শাসন পরিবর্তন না হওয়াকে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা বললেও যুদ্ধের সমর্থকেরা বলছেন, শাসনব্যবস্থার পতন অনেক সময় ধাপে ধাপে ঘটে।
লেখকের দাবি অনুযায়ী, ২৭ ফেব্রুয়ারির ইরান আর ১০০ দিন পরের ইরান এক নয়। সর্বোচ্চ নেতা নিহত, বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মৃত, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ড কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত, অর্থনীতি বড় আঘাতের মুখে এবং মুদ্রা ভয়াবহভাবে দুর্বল—এসব মিলিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে তিনি মনে করেন। ইরান নিজেই অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ২৭০ বিলিয়ন ডলার বলে স্বীকার করেছে—এমন দাবিও করা হয়েছে।
এই অর্থনৈতিক ক্ষতি যুদ্ধের সামরিক ফলাফলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে লড়া হয় না; অর্থনীতি দিয়েও লড়া হয়। একটি রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, জ্বালানি সরবরাহ, মুদ্রা, আমদানি, খাদ্যব্যবস্থা এবং জনজীবন—সবকিছু অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। যদি ইরানের অর্থনীতি আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকে এবং যুদ্ধ সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের ওপর জনগণের অসন্তোষ বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানের রাস্তায় কিছু মানুষ উল্লাস করেছে। এই দাবি সত্য হলে তা ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে এটিও সতর্কভাবে দেখতে হবে। কোনো দেশের কয়েকটি দৃশ্য বা সীমিত প্রতিক্রিয়া দিয়ে পুরো জনগণের মনোভাব বোঝা যায় না। ইরানে সরকারবিরোধী ক্ষোভ আছে, আবার জাতীয়তাবাদী প্রতিরোধের অনুভূতিও আছে। বিদেশি হামলার সময় অনেক সময় সরকারের বিরোধীরাও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জটিল অবস্থানে পড়ে।
যুদ্ধের সমর্থকদের যুক্তি হলো, এই সংঘাতের খরচ থাকলেও বিকল্প পথগুলো আরও ব্যর্থ ছিল। তাঁরা বলেন, দীর্ঘ আলোচনায় ইরান সময় নিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, আর সর্বোচ্চ চাপের নীতিও ইরানের আচরণ পুরোপুরি বদলাতে পারেনি। তাদের মতে, কূটনৈতিক ভাষণ ও সীমিত নিষেধাজ্ঞার যুগ শেষ হয়েছে; ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থামাতে শক্তি প্রয়োগ জরুরি ছিল।
অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব হলেও যুদ্ধের মানবিক মূল্য কী? বেসামরিক মানুষের জীবন, অবকাঠামো, অর্থনীতি, আঞ্চলিক শরণার্থী সংকট, তেলের বাজার, আন্তর্জাতিক আইন এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশোধ—এসব প্রশ্ন পাশ কাটানো যায় না। যুদ্ধের সামরিক অর্জন থাকলেও রাজনৈতিক সমাধান না এলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় পরিণত হতে পারে।
ইসলামাবাদ যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গেও লেখক গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে শক্তির জায়গা থেকে নয়, বরং চাপের মুখে। তিনি মনে করেন, সামরিক কাঠামো দুর্বল, অর্থনীতি রক্তক্ষরণে ক্লান্ত এবং সরকার সময় কিনতে চাইছিল বলেই তেহরান যুদ্ধবিরতিতে যায়। তবে ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কৌশলগত বিরতি হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। যুদ্ধের সময় কোনো পক্ষই সবসময় দুর্বলতা স্বীকার করে না; বরং সময়, পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক চাপকে নিজের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকেও লেখক কৌশলগত পরাজয় নয়, বরং সাময়িক বিরক্তিকর সমস্যা হিসেবে দেখেছেন। তাঁর দাবি, নৌ অবরোধের কারণে ইরানের দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। যদি এই হিসাব সঠিক হয়, তাহলে এটি তেহরানের ওপর ভয়াবহ অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে হরমুজের উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। এই জলপথে স্থায়ী অস্থিরতা শুধু ইরান নয়, অনেক দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবিকে লেখক অভ্যন্তরীণ দর্শকদের উদ্দেশে করা রাজনৈতিক ভাষা হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, বাস্তবে ইরানের হাতে শক্তিশালী দর-কষাকষির অবস্থান নেই। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দুর্বল রাষ্ট্রও প্রতিরোধ, সময়ক্ষেপণ, জোটনীতি এবং আঞ্চলিক চাপের মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করে। তাই ইরানকে পুরোপুরি অক্ষম ধরে নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
১০০ দিন আগে ইরান ছিল মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় অস্থিতিশীল শক্তি—এমন দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক সক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান, হিজবুল্লাহ থেকে হুতি পর্যন্ত বিস্তৃত মিত্র নেটওয়ার্ক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব—সব মিলিয়ে তেহরান ছিল ওয়াশিংটনের বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ। যুদ্ধের সমর্থকদের মতে, ১০০ দিনের অভিযান সেই শক্তির অনেক অংশ ভেঙে দিয়েছে।
তবু সবচেয়ে কঠিন কাজ এখনো বাকি। সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা এক বিষয়, কিন্তু স্থায়ী রাজনৈতিক ফলাফল তৈরি করা আরেক বিষয়। ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কেমন হবে, জনগণের ক্ষোভ কোন দিকে যাবে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পুনর্গঠিত হবে কি না, পারমাণবিক কর্মসূচি গোপনে ফের শুরু হবে কি না, আর আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলো কতটা সক্রিয় থাকবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও পথ সহজ নয়। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সামরিক ব্যয় বাড়বে, জ্বালানি বাজার অস্থির হবে, মিত্রদের ওপর চাপ বাড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন তৈরি হবে। যুদ্ধের প্রথম ১০০ দিনে সামরিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হলেও সেই সাফল্য ধরে রাখতে রাজনৈতিক কৌশল, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা দরকার।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের ১০০ দিনের হিসাব একরৈখিক নয়। যুদ্ধের সমর্থকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক শক্তি ও নেতৃত্ব কাঠামোতে ঐতিহাসিক আঘাত করেছে। সমালোচকেরা বলছেন, সামরিক সাফল্য থাকলেও যুদ্ধের মানবিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক ঝুঁকি এখনো শেষ হয়নি। বাস্তবতা সম্ভবত এই দুই অবস্থানের মাঝামাঝি। ইরান নিঃসন্দেহে বড় চাপে পড়েছে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি বা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা এখনো নিশ্চিত নয়।
১০০ দিনের যুদ্ধ দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সামরিক শক্তি দিয়ে দ্রুত বড় ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু যুদ্ধের শেষ ফলাফল শুধু ধ্বংসের পরিমাণ দিয়ে মাপা যায় না। আসল প্রশ্ন হলো, এই আঘাত কি ইরানের নীতিকে স্থায়ীভাবে বদলাবে, নাকি আরও দীর্ঘ অস্থিরতার দরজা খুলে দেবে। সেই উত্তর এখনো সময়ের হাতে।

