২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে মেক্সিকোয় পৌঁছালেও নতুন করে জটিলতায় পড়েছে ইরান ফুটবল দল। ভিসা সমস্যায় দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও সহকারী স্টাফরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় এখনো অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ফলে অভিযোগ উঠছে, বৈশ্বিক ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় আসরে ইরান আবারও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে।
দলটি প্রস্তুতি শিবিরে অংশ নিতে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় পৌঁছালেও জানা গেছে, প্রায় পনেরো জন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। এর মধ্যে রয়েছেন ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও। বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ইরানের সমর্থকরা এই পরিস্থিতিকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় এক সমর্থক জানান, খেলাধুলা সব সময় শান্তির প্রতীক হওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন ক্রীড়াঙ্গনকেও প্রভাবিত করছে।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর আগেও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে ইরানের প্রস্তুতি শিবির স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
তবুও শেষ পর্যন্ত ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। কিন্তু ভিসা জটিলতা সেই অংশগ্রহণের ওপর নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপে ইরান রয়েছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের গ্রুপে। তাদের সামনে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশরের মতো দল। ইতিহাসে এখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে না পারা ইরানের জন্য এবারের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
দলের সমর্থকদের মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে দুর্বল না করে বরং আরও ঐক্যবদ্ধ করছে। অনেকের মতে, ইরান সবসময়ই সংকটের মধ্যেই নিজেদের সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করে।
তিহুয়ানায় ইরান দলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দলকে হোটেলে নেওয়া হয় এবং অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
তবে সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, কাগজে কলমে বিশ্বকাপকে রাজনীতিমুক্ত বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তাদের মতে, ভিসা ও নিরাপত্তার এই জটিলতা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

