Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, জুন 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » মালিতে জঙ্গিদের নতুন কৌশল: ভয় কমিয়ে শাসনের চেষ্টা
    আন্তর্জাতিক

    মালিতে জঙ্গিদের নতুন কৌশল: ভয় কমিয়ে শাসনের চেষ্টা

    নিউজ ডেস্কজুন 13, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠী, সামরিক অভিযান, জাতিগত দ্বন্দ্ব ও রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার জটিল সংকট চলছে। এই সংকটের কেন্দ্রীয় দেশগুলোর একটি মালি। দেশটির বহু এলাকায় রাষ্ট্রের উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, আর সেই শূন্যতা কাজে লাগিয়ে আল-কায়েদা–ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে।

    তবে সাম্প্রতিক সময়ে মালির কিছু গ্রামাঞ্চলে এক অদ্ভুত পরিবর্তনের কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগে যে গোষ্ঠীগুলো ভয়, হত্যা, প্রকাশ্য শাস্তি ও কঠোর ধর্মীয় বিধিনিষেধের মাধ্যমে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করত, তারা এখন কিছু এলাকায় তুলনামূলক নরম আচরণ করছে। তারা কর নিচ্ছে, স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা করছে, দরিদ্রদের খাদ্য ও ওষুধ দিচ্ছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের প্রশাসনিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

    এই পরিবর্তনকে সরলভাবে মানবিকতা বা সহনশীলতার লক্ষণ ভাবলে ভুল হবে। বরং এটি হতে পারে আরও গভীর রাজনৈতিক কৌশল। যখন কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী শুধু হামলা চালায়, তখন তার লক্ষ্য থাকে ভয় তৈরি করা। কিন্তু যখন তারা দীর্ঘমেয়াদে কোনো এলাকা ধরে রাখতে চায়, তখন তাদের দরকার হয় স্থানীয় স্বীকৃতি, নিয়মিত আয়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং শাসনের কাঠামো। মালির কিছু অঞ্চলে এখন সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

    পাউচি গ্রামের বদলে যাওয়া দৃশ্য

    নাইজার নদীর ধারের পাউচি গ্রামের পুরুষদের কয়েক মাস পরপর একটি কাদামাটির মসজিদে ডাকা হয়। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা ফসল ও গবাদিপশুর ওপর কর আদায় করে। পরে সেই অর্থ বা সম্পদ দিয়ে দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও পশু বিতরণ করা হয়।

    একজন স্থানীয় পশুপালক আমাদুর স্মৃতিতে এখনো পাঁচ বছর আগের ভয়াবহতা তাজা। তখন একই গোষ্ঠীর সদস্যরা বলত, তাদের ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললে কারও জীবন নিরাপদ থাকবে না। এমনকি গ্রামের ইমামও হুমকির বাইরে ছিলেন না।

    কিন্তু এখন ভাষা বদলেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, আগের মতো প্রকাশ্য হুমকি কমেছে। তারা এখন ধর্মীয় বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু সবসময় সরাসরি সহিংসতার ভাষা ব্যবহার করছে না। এই পরিবর্তন স্থানীয় মানুষের জীবনে কিছুটা স্বস্তি আনলেও এর ভেতরে ভয় পুরোপুরি নেই—এমন বলা যাবে না।

    ২০১৩ সালে দেশের উত্তরাঞ্চলের গাও শহরে ইসলামপন্থি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত একজন মালিয়ান সেনাসদস্য।

    কোন গোষ্ঠী, কীভাবে শক্তিশালী হলো

    এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির নাম জামাআত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন। ২০১৭ সালে এটি গঠিত হয় এবং আল-কায়েদার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে। গত এক দশকে গোষ্ঠীটি সাহেল অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয় ও শক্তির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেছে।

    তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অনেক জায়গায় গান, ধূমপান, বিয়ের অনুষ্ঠান ও স্থানীয় সংস্কৃতির নানা প্রকাশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। শুরুতে তারা মরুভূমি, পাহাড়ি এলাকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী হয়েছে।

    মালির সামরিক কর্মকর্তারা ২০২০ সালে ক্ষমতা দখলের পর দেশটির নিরাপত্তা কাঠামো বড়ভাবে বদলে যায়। পরে ফরাসি ও জাতিসংঘের প্রায় ১৫ হাজার সেনা দেশ ছাড়ে। তাদের জায়গায় মালি সরকার রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের সহায়তা নেয়। কিন্তু এই পরিবর্তনও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিস্তার ঠেকাতে পারেনি।

    বরং অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়া, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দুর্বলতা, স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ এবং সেনা অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো নতুন সুযোগ পেয়েছে।

    এপ্রিলের হামলা দেখিয়েছে তাদের শক্তি

    এপ্রিল মাসে মালিজুড়ে গোষ্ঠীটির কয়েকটি বড় হামলা তাদের সামরিক সক্ষমতা স্পষ্ট করে। তারা রাজধানী বামাকোর বিমানবন্দরেও হামলা চালায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হন এবং উত্তরের একাধিক সেনা ঘাঁটি দখল করা হয়। এসব হামলায় তুয়ারেগ নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সমন্বয়ের কথাও সামনে আসে।

    মালির সরকার এই গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং দেশের সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার জন্য তাদের দায়ী করে। রাশিয়াও মালিতে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

    কিন্তু সামরিক হামলার পাশাপাশি আরেকটি কম আলোচিত পরিবর্তন ঘটছে। যেখানে এই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত, সেখানে তারা শুধু বন্দুকের ভয় দেখিয়ে নয়, বরং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও নিজেদের জায়গা তৈরি করছে।

    মালির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের কয়েকজন বাসিন্দার বর্ণনায় দেখা যায়, গোষ্ঠীটির ভাষা কিছুটা নরম হয়েছে। তারা স্থানীয় জমি বিরোধ মীমাংসা করছে, কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বে বিচারকের ভূমিকা নিচ্ছে, কিছু সাহায্য সংস্থাকে যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছে এবং কোনো কোনো সরকারি কর্মচারীকে ছুটিতে পরিবার দেখতে ফিরে আসতে দিচ্ছে।

    একজন সাহেল বিশ্লেষকের ভাষায়, তারা যত শক্তিশালী হয়েছে, তত কম প্রকাশ্য নিষ্ঠুরতা দেখাতে হচ্ছে। কারণ একবার কোনো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে প্রতিদিন ভয় দেখানোর প্রয়োজন কমে যায়। তখন দরকার হয় শাসনের স্থায়িত্ব, কর আদায়, স্থানীয় সহযোগিতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা।

    তবে এটিকে সাধারণ মানুষের স্বাধীন সম্মতি বলা যাবে না। অনেকের কাছে এটি বেঁচে থাকার কৌশল। কেউ কেউ মেনে নিয়েছে, কারণ বিকল্প নেই। কেউ ভয় পায়। কেউ আবার মনে করে, দুর্নীতিগ্রস্ত বা সহিংস রাষ্ট্রীয় বাহিনীর চেয়ে এদের নিয়ম অন্তত বোঝা যায়। এই মিশ্র বাস্তবতাই মালির সংকটকে জটিল করে তুলেছে।

    রাষ্ট্র যেখানে দুর্বল, সেখানেই ছায়া-প্রশাসন

    মালির বহু প্রত্যন্ত এলাকায় রাষ্ট্রীয় প্রশাসন দুর্বল। আদালত নেই, নিয়মিত পুলিশ নেই, সরকারি সেবা নেই, রাস্তা নিরাপদ নয়। কৃষক ও পশুপালকদের জমি নিয়ে বিরোধ, পানি ব্যবহার, গবাদিপশুর চলাচল, চাষের সীমা—এসব নিয়ে সংঘাত দীর্ঘদিনের।

    এই শূন্যতায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের বিচারক ও প্রশাসক হিসেবে হাজির করছে। তারা কর আদায় করছে, নিরাপত্তার দাবি করছে, স্থানীয় বিরোধ মেটাচ্ছে এবং কখনো দরিদ্রদের সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে কিছু মানুষ তাদের সম্পূর্ণ সমর্থন না করলেও তাদের উপস্থিতিকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিচ্ছে।

    এখানেই রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ। কোনো গোষ্ঠী শুধু পাহাড় বা বন থেকে হামলা চালালে তাকে সামরিকভাবে মোকাবিলা করা একরকম। কিন্তু সেই গোষ্ঠী যদি গ্রামবাসীর দৈনন্দিন বিচার, কর, খাদ্য সহায়তা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন তাকে সরানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

    সরকার কেন আলোচনায় রাজি নয়

    মালির সামরিক সরকার এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের বক্তব্য, যারা বছরের পর বছর সহিংসতা, হত্যা ও অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী, তাদের সঙ্গে সংলাপে বসার প্রশ্নই ওঠে না।

    সরকারের এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে বোধগম্য। একটি রাষ্ট্র যদি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনায় বসে, তাহলে অনেকের চোখে তা গোষ্ঠীটির বৈধতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যারা আল-কায়েদা–ঘনিষ্ঠ, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক দরকষাকষি আন্তর্জাতিকভাবেও জটিল বিষয়।

    কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন প্রশ্ন তুলছে। যদি কোনো গোষ্ঠী অনেক এলাকায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, স্থানীয় কর সংগ্রহ করে, বিচার করে এবং নিয়ম চালু করে, তাহলে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সেই বাস্তবতা মুছে ফেলা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন সামনে আসছে।

    তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সম্পর্ক

    মালির উত্তরাঞ্চলে তুয়ারেগ নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দীর্ঘদিনের। কখনো তাদের সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে, কখনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আবার কিছু সমন্বয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    বিচ্ছিন্নতাবাদী এক নেতা দাবি করেছেন, জঙ্গি গোষ্ঠীর ভেতরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, তারা স্থানীয় ইসলামি ব্যাখ্যা, শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তিনি আরও মনে করেন, উত্তর মালির সংকট সমাধানে এই গোষ্ঠীকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে এগোনো কঠিন।

    তবে এই বক্তব্য বিতর্কিত। কারণ একই গোষ্ঠী এখনো ভয়াবহ সহিংসতায় জড়িত। তাই তাদের পরিবর্তনকে কতটা সত্যিকারের রাজনৈতিক রূপান্তর আর কতটা কৌশলগত মুখোশ—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন আছে।

    নরম ভাষার আড়ালে কঠোর লক্ষ্য

    গোষ্ঠীটি সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বার্তা বদলাচ্ছে। আগে যেখানে মূলত ভয় দেখানো ছিল, এখন তারা সাধারণ মালিয়ানদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ফরাসি ভাষায় বিবৃতি প্রকাশ, দক্ষিণ মালিতে ব্যবহৃত বামবারা ভাষায় ভিডিও বার্তা এবং নতুন মালির কথা বলা—এসবই তাদের রাজনৈতিক প্রচারের অংশ।

    তাদের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো মালিতে থাকা রুশ বাহিনীকে বের করে দেওয়া এবং ২০২০ ও ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় থাকা সামরিক নেতৃত্বকে সরানো। তারা নিজেদের শুধু সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়, বরং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

    তবে তাদের ঘোষিত ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলামি আইনের ওপর ভিত্তি করে। ফলে তাদের শাসন কাঠামো নাগরিক স্বাধীনতা, নারী অধিকার, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদের জন্য কী অর্থ বহন করবে—তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ থেকেই যায়।

    ২০১৩ সালে একটি সড়কচিহ্নে লেখা ছিল: “টিমবুক্তু, ইসলামের মিনার এবং শরিয়া আইন বাস্তবায়নের প্রবেশদ্বার, আপনাকে স্বাগত জানায়।”

    সহিংসতা কমেছে, কিন্তু শেষ হয়নি

    যেসব এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্ত, সেখানে কিছু বাসিন্দা বলছেন, আগের মতো নির্বিচার হত্যা বা প্রকাশ্য নিষ্ঠুরতা কমেছে। কেউ কেউ বলছেন, তাদের নিয়ম কঠিন হলেও এখন অন্তত বেঁচে থাকা যায়। একজন নারী বলেছেন, তারা নিহত হচ্ছেন না—এটাই এখন বড় স্বস্তি।

    কিন্তু এই বিবরণ পুরো চিত্র নয়। গোষ্ঠীটি এখনো ভয়াবহ সহিংসতায় সক্ষম। জানুয়ারিতে একটি জ্বালানি বহরে হামলায় ১২ জন নিহত হন; কিছু মানুষের গলা কাটা হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। মে মাসে কেন্দ্রীয় মালির দুটি গ্রামে হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হন। যেসব এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণ মানে না, সেখানে অবরোধ, খাদ্য সংকট ও সমষ্টিগত শাস্তির অভিযোগও আছে।

    একটি গ্রামে এক বাসিন্দা বলেছেন, অবরোধের কারণে মানুষ ৫০০ মিটার দূরেও যেতে পারে না। মাছ, মাংস, জ্বালানি কাঠ—সবকিছুর অভাব দেখা দিয়েছে। খাদ্য ও ওষুধের অভাবে শিশু, বৃদ্ধসহ বহু মানুষ মারা গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

    অর্থাৎ কিছু এলাকায় আচরণ নরম হলেও গোষ্ঠীটির সামগ্রিক চরিত্র সহিংসতা থেকে মুক্ত নয়। বরং তারা যেখানে শক্তিশালী, সেখানে শাসনের ভাষা ব্যবহার করছে; যেখানে প্রতিরোধ আছে, সেখানে কঠোরতার পথ নিচ্ছে।

    কেন কিছু মানুষ তাদের মেনে নিচ্ছে

    মালির সংকটের একটি বেদনাদায়ক দিক হলো, অনেক মানুষ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর চেয়েও এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর শাসনকে কম অনিশ্চিত মনে করছে। এর পেছনে সেনা অভিযান, সহযোগী মিলিশিয়া ও রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নির্যাতনের অভিযোগ বড় ভূমিকা রাখছে।

    জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো মালির সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ তুলেছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে মালির সেনা ও তাদের রুশ অংশীদাররা জঙ্গিদের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ আছে। মালি সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।

    এই পরিস্থিতি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। যখন কোনো গ্রামের মানুষ রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ভয় পায়, তখন জঙ্গিরা নিজেদের ‘বিকল্প নিরাপত্তা’ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। অনেক তরুণ সেনা বা মিলিশিয়ার নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে গোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    ধর্ম, সংস্কৃতি ও স্থানীয় সমাজের টানাপোড়েন

    পশ্চিম আফ্রিকায় ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সংস্কৃতি, সুফি ঐতিহ্য, সংগীত, উৎসব ও সামাজিক রীতির সঙ্গে মিশে বিকশিত হয়েছে। কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কঠোর ব্যাখ্যা সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে সংঘর্ষে যায়।

    শুরুতে তারা পুরুষদের দাড়ি কামানো নিষিদ্ধ করেছিল, নারীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা দিয়েছিল, বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করেছিল এবং নানা সামাজিক অভ্যাসে কঠোর শাস্তি দিত। কোথাও প্রকাশ্য বেত্রাঘাতের ঘটনাও ঘটেছে।

    তবে কিছু এলাকায় এখন তারা সরাসরি কঠোরতা কমিয়ে ধর্মীয় বক্তব্য, সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলার কথা বেশি বলছে। আগে শাস্তি দেওয়ার আগে সতর্কতা ছাড়াই ব্যবস্থা নেওয়া হতো, এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে সতর্ক করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা বলছেন।

    কিন্তু এই পরিবর্তনও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা নয়। কারণ মানুষ জানে, চূড়ান্ত ক্ষমতা বন্দুকধারীদের হাতেই আছে। তাই নরম ভাষার ভেতরেও চাপ, ভয় ও বাধ্যতা রয়ে যায়।

    মালি সংকটের বড় শিক্ষা

    মালির ঘটনাপ্রবাহ দেখায়, সশস্ত্র গোষ্ঠী শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে টিকে থাকে না। তারা রাষ্ট্রীয় শূন্যতা, জনঅসন্তোষ, দরিদ্রতা, বিচারহীনতা এবং নিরাপত্তাহীনতাকে কাজে লাগিয়ে শিকড় গেড়ে বসে।

    যেখানে সরকার নেই, সেখানে তারা কর নেয়। যেখানে আদালত নেই, সেখানে তারা বিচার করে। যেখানে সরকারি সহায়তা নেই, সেখানে তারা দরিদ্রদের কিছু সহায়তা দেয়। যেখানে সেনা অভিযানে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে তারা নিজেদের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরে।

    এই কৌশল বিপজ্জনক, কারণ এটি সহিংস গোষ্ঠীকে সামাজিক বাস্তবতায় ঢুকিয়ে দেয়। এরপর শুধু সামরিক অভিযান দিয়ে তাদের সরানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজন হয় কার্যকর রাষ্ট্রীয় সেবা, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, স্থানীয় আস্থা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ।

    সামনে কী হতে পারে

    মালির সামরিক সরকার আপাতত সংলাপের পথ প্রত্যাখ্যান করছে। রাশিয়াও সশস্ত্র গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। অন্যদিকে আল-কায়েদা–ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীটি নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় ভূমিকা চাইছে।

    এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে মালি আরও বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে। শহর ও সামরিক ঘাঁটিতে সরকার, আর গ্রামাঞ্চলের বড় অংশে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছায়া-শাসন—এমন বাস্তবতা দীর্ঘস্থায়ী হলে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন আরও কঠিন হবে।

    সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, মালির সাধারণ মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে? এমন এক রাষ্ট্রকে, যাকে তারা দূরে বা কখনো ভয়ের উৎস হিসেবে দেখে? নাকি এমন এক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে, যারা কর নেয়, নিয়ম চাপায়, স্বাধীনতা সীমিত করে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও বিচার দেওয়ার দাবি করে?

    এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার—মালির সংকট শুধু বন্দুকের লড়াই নয়। এটি শাসন, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক আস্থার লড়াই।

    মালির কিছু অঞ্চলে আল-কায়েদা–ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীর আচরণ বদলানোর খবর প্রথমে আশ্চর্য মনে হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, এটি দুর্বলতা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের কৌশলও হতে পারে।

    আগে তারা ভয় দেখিয়ে শাসন করেছে। এখন যেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্ত, সেখানে তারা কর আদায়, বিরোধ মীমাংসা, দরিদ্র সহায়তা ও প্রশাসনিক ভূমিকার মাধ্যমে নিজেদের স্থায়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এতে স্থানীয় মানুষের ওপর সরাসরি সহিংসতা কিছু ক্ষেত্রে কমলেও স্বাধীনতা, অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন অমীমাংসিতই থাকছে।

    মালির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু সেনা অভিযান বা বিদেশি সহায়তার ওপর নয়; বরং রাষ্ট্র কতটা মানুষের আস্থা ফেরাতে পারে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে এবং গ্রামাঞ্চলের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে—তার ওপর। কারণ যেখানে রাষ্ট্র অনুপস্থিত, সেখানে শূন্যতা কখনো খালি থাকে না। সেই জায়গা দখল করে নেয় অন্য শক্তি—কখনো বন্দুক হাতে, কখনো করের খাতা হাতে, আর কখনো সাহায্যের প্যাকেট হাতে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    ফিলিস্তিনি অভিজাতরা এক শতাব্দী ধরে প্রতিরোধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে

    জুন 13, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ‘আমি আশা করি রামা পদত্যাগ করবেন’: আলবেনিয়ার ফ্লেমিঙ্গো বিপ্লব আসলে কী নিয়ে?

    জুন 13, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ‘আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা করা উচিত, এমনকি যখন মিত্ররাও তা ভঙ্গ করে’

    জুন 13, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.