বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে সমর্থকদের নানা ব্যতিক্রমী গল্প। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বোস্টন পর্যন্ত চার হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ হেঁটে আসা এক স্কটিশ সমর্থক এবং মেক্সিকোর জার্সি পরা একটি হাঁস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন তুরস্কের এক ব্যতিক্রমী সমর্থক। সূত্র: টেলেক্স
গত রোববার (১৪ জুন) ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন নেজদেত ওলচেরমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘উদি নেকো’ নামে বেশি পরিচিত। তার ব্যতিক্রমী চেহারা মুহূর্তেই দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যায়।
হাঙ্গেরিয়ান সংবাদমাধ্যম টেলেক্সের তথ্য অনুযায়ী, নেজদেত ওলচেরমান তুরস্কের জনপ্রিয় ক্লাব বেসিকতাসের একনিষ্ঠ সমর্থক। ক্লাবটির ঐতিহ্যবাহী রং কালো ও সাদা হওয়ায় তিনি নিজের পুরো মুখ কালো রঙে রাঙান, শুধু চুল ও দাড়ি সাদা রাখেন। তিনি তুর্কিশ ঝান্দার্মারির সাবেক সদস্য। বেসিকতাসের সাবেক সভাপতি হাসান আরাতের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। বেসিকতাস এবং তুরস্ক জাতীয় দলের অধিকাংশ ম্যাচেই তাকে দেখা যায়।
তবে গ্যালারিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলেও মাঠে তুরস্কের দিনটি সুখকর ছিল না। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয় আর্দা গুলেরের দল।
ম্যাচের আগে তুরস্কের তরুণ তারকা আর্দা গুলেরকে ঘিরে ছিল বাড়তি প্রত্যাশা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণভাগের দুই তরুণ ফুটবলার মোহামেদ তোরে ও নেস্টরি ইরানকুন্ডা।
রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের ওপর ভরসা করে অস্ট্রেলিয়া। তাদের গতি ও সরাসরি আক্রমণ তুরস্কের রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলে। অন্যদিকে বলের দখল বেশি থাকলেও তুরস্ক স্পষ্ট গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের ২৭তম মিনিটে নেস্টরি ইরানকুন্ডা দুর্দান্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার ষষ্ঠ গোল। ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আবারও প্রমাণ করেন কেন তাকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পুরো ম্যাচে বলের দখল এবং লক্ষ্যে শটের সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও সেই আধিপত্য কাজে লাগাতে পারেনি তুরস্ক। অস্ট্রেলিয়া ছিল সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। তারা তুরস্কের আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়।
আর্দা গুলের বেশ কয়েকবার বল পেলেও প্রতিবারই অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগের কড়া নজরদারির মুখে পড়েন। ফলে বিপজ্জনক এলাকায় নিজের স্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ একাদশে সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। ম্যাথিউ রায়ানের পরিবর্তে মাঠে নেমে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন এবং অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণকে শক্তিশালী রাখেন।
পরবর্তী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া সিয়াটলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে। ইতোমধ্যে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

