ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, তখন সমালোচকদের জবাব দিতে সরাসরি মাঠে নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনার টেবিলে বসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই ছিল সবচেয়ে বেশি আগ্রহী এবং চুক্তি সম্পাদনের জন্য তারা চরম চাপের মধ্যে ছিল।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, এই সমঝোতা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বা ছাড় দেওয়ার ফল নয়। বরং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে ইরান আলোচনায় আসতে বাধ্য হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তারা বিকল্প পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। তিনি দাবি করেন, দেশটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ায় সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে।
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে দুই দেশের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ভিত্তি তৈরির জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সময়সীমাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার করবে এবং চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বর্তমান সমঝোতার অর্থ এই নয় যে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক চাপ তুলে নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক কড়াকড়ির মূল কাঠামো বহাল থাকবে।
এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে উঠা সমালোচনারও জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই সমঝোতা ইরানকে কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের অবস্থান দুর্বল করে দিতে পারে। তবে ট্রাম্পের দাবি, বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো এবং আলোচনার প্রতিটি ধাপেই যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে একই সঙ্গে তারা মনে করেন, বর্তমান সমঝোতা এখনো একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো জটিল বিষয়গুলোতে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
ফলে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। আপাতত উভয় পক্ষ আলোচনার পথ খোলা রাখলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

