রাষ্ট্র কতটা বড় হবে, সরকার মানুষের জীবনে কতটা হস্তক্ষেপ করবে, আর বাজার কতটা স্বাধীন থাকবে—এই প্রশ্নগুলো নতুন নয়। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে প্রশ্নগুলো আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে “সীমিত সরকার” ধারণাটি এখন শুধু অর্থনীতি বা প্রশাসনের বিষয় নয়; এটি হয়ে উঠেছে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার এবং ক্ষমতার জবাবদিহির বড় বিতর্ক।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৭৭৬ সাল শুধু যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার বছর নয়; একই বছর আডাম স্মিথের বিখ্যাত অর্থনৈতিক চিন্তাধারাও বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলো ফেলে। একদিকে স্বাধীনতার ঘোষণা ব্যক্তির অধিকার, জনগণের সম্মতি এবং শাসনের বৈধতার কথা বলেছিল। অন্যদিকে আডাম স্মিথ এমন অর্থনীতির কথা বলেন, যেখানে ব্যক্তি নিজের কল্যাণের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সরকার অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাজারে বাধা দেবে না।
এই দুই চিন্তার মধ্যে একটি মিল ছিল। দুটোই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ভাবতে শিখিয়েছিল। তখনকার পৃথিবীতে এটি ছিল বড় পরিবর্তন। কারণ তার আগে বেশির ভাগ সভ্যতা ও রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ছিল শাসক, সাম্রাজ্য, সেনাবাহিনী, উপনিবেশ বিস্তার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের কাছে গৌণ। ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রই ছিল প্রধান। মানুষের অধিকার নয়, ক্ষমতার বিস্তারই ছিল বড় লক্ষ্য।
আডাম স্মিথ যে অর্থনৈতিক ধারণা তুলে ধরেছিলেন, তা ছিল বাণিজ্যনির্ভর পুরোনো রাষ্ট্রনীতির বিপরীতে এক নতুন পথ। পুরোনো ব্যবস্থায় রাষ্ট্র সোনা জমাত, উপনিবেশ দখল করত, সামরিক শক্তি বাড়াত এবং ব্যক্তির জীবনকে রাষ্ট্রের স্বার্থের অধীন করে রাখত। স্মিথ এর বিপরীতে বলেন, মানুষকে যদি ন্যায্য নিয়মের মধ্যে নিজের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
এই চিন্তার কেন্দ্রে ছিল মুক্ত প্রতিযোগিতা। কেউ যেন অন্যায় সুবিধা না পায়, আইন যেন সবার জন্য সমান থাকে, আর ব্যক্তি যেন নিজের শ্রম, মেধা ও উদ্যোগ দিয়ে এগোতে পারে—এটাই ছিল মূল কথা। তবে স্মিথের ধারণা ছিল না যে সরকার একেবারে অদৃশ্য হয়ে যাবে। বরং তিনি এমন একটি সীমিত কিন্তু কার্যকর সরকারের কথা ভাবতেন, যা আইন রক্ষা করবে, ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে এবং সমাজের মৌলিক কাঠামোকে শক্তিশালী রাখবে।
এখানেই “সীমিত সরকার” ধারণাটির আসল অর্থ বোঝা জরুরি। সীমিত সরকার মানে দুর্বল সরকার নয়। সীমিত সরকার মানে এমন সরকার, যার ক্ষমতা আইন ও জনগণের সম্মতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এর কাজ নাগরিককে দমন করা নয়; বরং অধিকার রক্ষা করা। এর কাজ বাজারকে নিজের ইচ্ছামতো চালানো নয়; বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে কেউ একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়ে অন্যদের সুযোগ নষ্ট করতে না পারে।
১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাও একই ধরনের রাজনৈতিক দর্শন সামনে আনে। সেখানে বলা হয়েছিল, মানুষের কিছু অধিকার অস্বীকার করা যায় না। এর মধ্যে সুখ অনুসরণের অধিকারও রয়েছে। লক্ষ করার বিষয়, সেখানে সুখ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নয়, সুখ অনুসরণের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র মানুষের জীবনের প্রতিটি ফলাফল ঠিক করে দেবে না, কিন্তু মানুষকে নিজের জীবন গড়ার অধিকার থেকে বঞ্চিতও করবে না।
এই ধারণার ভিত্তিতে সরকারকে জনগণের সম্মতির ওপর দাঁড়াতে বলা হয়। সরকার যদি নিজের উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে মানুষের অধিকার ধ্বংস করতে শুরু করে, তবে জনগণের তা পরিবর্তন করার অধিকার আছে। সে সময়ের জন্য এই ধারণা ছিল অত্যন্ত সাহসী। কারণ তার আগে বহু রাষ্ট্রে সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকার নাগরিকের ছিল না। শাসকই ছিল আইন, আর জনগণ ছিল শাসনের বস্তু।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের ভূমিকা বদলেছে। আডাম স্মিথের যুগে সরকারকে মূলত আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, বিচারব্যবস্থা, মুদ্রা, বাণিজ্যের স্থিতি এবং নাগরিক শিক্ষার মতো কিছু প্রয়োজনীয় কাজে সীমিত রাখার কথা ভাবা হয়েছিল। একটি কার্যকর সেনাবাহিনী, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালত, অপরাধ দমনের ব্যবস্থা, বাজার চলার জন্য নির্ভরযোগ্য মুদ্রা এবং নাগরিকদের জ্ঞান ও দায়িত্ববোধ গড়ার জন্য শিক্ষা—এসব ছিল সীমিত সরকারেরও প্রয়োজনীয় কাজ।
কিন্তু গত শতকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত হয়েছে। কারণ সমাজ ও অর্থনীতি আগের চেয়ে অনেক জটিল হয়েছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন, বড় কর্পোরেশনের উত্থান, পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ—এসব ক্ষেত্র এমন হয়ে উঠেছে যেখানে সরকার না থাকলে সাধারণ মানুষ সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একটি কারখানায় শ্রমিক নিরাপদ কি না, বাজারের মাংস স্বাস্থ্যসম্মত কি না, ওষুধ আসল ও কার্যকর কি না, পানীয় জল নিরাপদ কি না—এসব প্রশ্ন শুধু ব্যক্তির পছন্দের ওপর ছেড়ে দিলে চলে না। কারণ ক্ষতির দায় অনেক সময় ভুক্তভোগীর ওপর এসে পড়ে, কিন্তু লাভ চলে যায় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের হাতে। এখানেই আধুনিক রাষ্ট্রের ভূমিকা তৈরি হয়।
জনস্বাস্থ্যও এর একটি বড় উদাহরণ। সংক্রামক রোগ মোকাবিলা, টিকা, হাসপাতাল ব্যবস্থা, চিকিৎসা-সুবিধা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা অনেক দেশে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়। উন্নত অর্থনীতির বেশির ভাগ দেশে জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখানে ব্যতিক্রম। অনেক আমেরিকান এখনো সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাকে ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন। আবার নেদারল্যান্ডসের মতো কিছু দেশ পানি সরবরাহের মতো জনপরিষেবা শুধু নিয়ন্ত্রণই করেনি, রাষ্ট্রীয় মালিকানার আওতায়ও এনেছে।
এখানে ধ্রুপদি উদারনীতি আর আধুনিক উদারনীতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়। ধ্রুপদি উদারনীতি সরকারকে ছোট রাখতে চায়, যাতে ব্যক্তি ও বাজার স্বাধীন থাকে। আধুনিক উদারনীতি বলে, স্বাধীনতা শুধু কাগজে থাকলে হবে না; বাস্তবে মানুষের সুযোগ, নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সরকারকে কিছু ক্ষেত্রে সক্রিয় হতে হবে।
এই সক্রিয়তার পেছনে দুটি বড় কারণ আছে। প্রথমত, বাজার সব সময় নিখুঁতভাবে কাজ করে না। দূষণ, একচেটিয়া ব্যবসা, তথ্যের অসমতা, ভোক্তার দুর্বল অবস্থান—এসব সমস্যা বাজারকে বিকৃত করে। আডাম স্মিথ নিজেও একচেটিয়া ক্ষমতার বিপদ নিয়ে সতর্ক ছিলেন। তাই বাজারকে সঠিক পথে রাখতে কখনো কর, কখনো নিয়ন্ত্রণ, কখনো প্রতিযোগিতা আইন দরকার হয়।
দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির ফলাফল সব সময় ন্যায্যভাবে ভাগ হয় না। মুক্ত প্রতিযোগিতা থাকলেও শুরু করার সুযোগ সবার সমান নয়। কেউ সম্পদ, শিক্ষা, পরিবার, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে শুরু করে; কেউ শুরু করে বহু বাধা নিয়ে। তাই আধুনিক রাষ্ট্র অনেক সময় আয়বৈষম্য কমাতে করব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শ্রমনীতি ব্যবহার করে।
অবশ্য এরও খরচ আছে। প্রগতিশীল কর বা সামাজিক ব্যয় কখনো কখনো উৎপাদন ও বিনিয়োগের প্রণোদনাকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থনীতির ভাষায় বলা যায়, দক্ষতা ও সমতার মধ্যে একটি টানাপোড়েন আছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে যেতে পারে, কিন্তু এর বিনিময়ে সমাজে বৈষম্য কমতে পারে। অধিকাংশ মানুষই মনে করেন, এই ভারসাম্য পুরোপুরি বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান রাজনীতি এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। তারা দাবি করে, তারা সীমিত সরকার ও মুক্তবাজারের পুরোনো আদর্শে ফিরতে চায়। তাদের লক্ষ্য করব্যবস্থাকে কম প্রগতিশীল করা, প্রতিযোগিতা আইন ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, এবং বারাক ওবামার সময় পাস হওয়া অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বাতিল করা, যা স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়িয়েছিল।
কাগজে-কলমে তারা কেন্দ্রীয় ঘাটতি ও ঋণ কমানোর কথাও বলে। কিন্তু বাস্তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের নীতিই সেই সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে বলে লেখক মনে করেন। এখানে বড় প্রশ্ন হলো: সীমিত সরকারের নামে কি সত্যিই দায়িত্বশীল অর্থনীতি গড়া হচ্ছে, নাকি নির্বাচনী স্লোগানের আড়ালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে অন্যভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে?
ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর আবার হোয়াইট হাউসে ফেরার আগেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষতা ও সমতার সঠিক ভারসাম্যের কাছাকাছি ছিল না—এমন মূল্যায়ন করা হয়েছে। কিন্তু তার ফিরে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে বলে লেখকের বক্তব্য। তার অনিশ্চিত সিদ্ধান্ত, বেপরোয়া ব্যয়, সরকারি কর্মীদের নির্বিচার ছাঁটাই এবং অদক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা মানুষের কল্যাণকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তিনি মনে করেন।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, আইন, চুক্তি ও রাজনৈতিক রীতিনীতির প্রতি অবহেলা। যখন কোনো সরকার নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করে, তখন “সীমিত সরকার” ধারণাটি অর্থহীন হয়ে যায়। কারণ সীমিত সরকারের মূল শর্তই হলো ক্ষমতা আইনের দ্বারা বাঁধা থাকবে। সরকার ব্যক্তিগত স্বার্থে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করবে না। বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও নাগরিক অধিকার কোনো দল বা ব্যক্তির ইচ্ছার অধীন হবে না।
এই জায়গায় লেখাটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক সতর্কবার্তাও হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মৌলিক নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং আইনের সামনে সমতা। যদি এগুলো দুর্বল হয়ে যায়, তবে কর কমানো বা নিয়ন্ত্রণ কমানোর মতো অর্থনৈতিক স্লোগান দিয়ে স্বাধীনতার আদর্শ রক্ষা করা যায় না।
সীমিত সরকারের আসল ধারণা ছিল নাগরিকের স্বাধীনতা রক্ষা করা। কিন্তু যদি সেই ধারণাকে ব্যবহার করে শক্তিশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আরও সুবিধা দেওয়া হয়, সাধারণ মানুষের অধিকার দুর্বল করা হয়, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা কমানো হয়, এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দলীয় স্বার্থে প্রয়োগ করা হয়—তবে সেটি আর আডাম স্মিথের ন্যায়ভিত্তিক বাজার নয়, কিংবা ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার আদর্শও নয়।
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ২৫০তম বার্ষিকীর দিকে এগোচ্ছে। এই সময়টি তাই শুধু উৎসবের নয়, আত্মসমালোচনারও। আড়াইশ বছর আগে যে আদর্শ জনগণের সম্মতি, আইনের শাসন, ব্যক্তি অধিকার এবং ক্ষমতার সীমার কথা বলেছিল, আজ সেই আদর্শ কতটা জীবিত আছে—এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে মার্কিন ভোটারদের।
সীমিত সরকার বলতে যদি বোঝানো হয় এমন সরকার, যা নাগরিককে দমায় না, আইনকে সম্মান করে, সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে এবং ক্ষমতাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে—তবে তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। কিন্তু সীমিত সরকারের নামে যদি জনস্বার্থের সুরক্ষা ভেঙে দেওয়া হয়, একচেটিয়া ক্ষমতাকে ছাড় দেওয়া হয়, স্বাস্থ্যসেবা কমানো হয়, বৈষম্য বাড়ানো হয় এবং আইনের শাসন দুর্বল করা হয়, তবে সেটি সীমিত সরকার নয়; সেটি দায়িত্বহীন সরকার।
শেষ পর্যন্ত বিতর্কটি ছোট সরকার বনাম বড় সরকার নয়। আসল প্রশ্ন হলো—কেমন সরকার? এমন সরকার কি দরকার, যা কম হস্তক্ষেপের নামে শক্তিশালীদের অবাধ সুবিধা দেয়? নাকি এমন সরকার দরকার, যা নিজের ক্ষমতার সীমা মানে, কিন্তু নাগরিক অধিকার, ন্যায্যতা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং আইনের সমতা রক্ষায় পিছিয়ে যায় না?
আডাম স্মিথের সময় থেকে আজ পর্যন্ত “সীমিত সরকার” ধারণার পথ অনেক বদলেছে। কিন্তু তার মূল শিক্ষা এখনো প্রাসঙ্গিক: রাষ্ট্রের ক্ষমতা সীমিত হতে হবে, বাজারে ন্যায্যতা থাকতে হবে, আর ব্যক্তি যেন মর্যাদা ও সুযোগ নিয়ে নিজের জীবন গড়তে পারে। এই ভারসাম্য হারালে স্বাধীনতার ভাষা থাকে, কিন্তু স্বাধীনতার আত্মা হারিয়ে যায়।

