মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর নতুন উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর অনেকেই আশা করেছিলেন, অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও উত্তেজনা কমবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, কাগজে-কলমে শান্তির ঘোষণা এলেও মাটির বাস্তবতা এখনো অস্থির, অনিশ্চিত এবং বিস্ফোরক।
যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলার খবর পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ অঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আবাসিক ভবন ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোরের আগে গোলন্দাজ হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এই হামলা শুধু লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নড়বড়ে করেনি; একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ, যে চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল সব ফ্রন্টে সামরিক উত্তেজনা কমানো, সেই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও লেবাননে রক্তপাত বন্ধ হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই শান্তির পথে প্রথম ধাপ, নাকি আরও বড় সংঘাতের আগে একটি সাময়িক বিরতি?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি যে ১৪ দফা অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছে, তার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রতিশ্রুতি। এই প্রতিশ্রুতির আওতায় লেবাননও রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, ইসরায়েল এই চুক্তির সরাসরি অংশ নয়। তেলআবিব শুরু থেকেই বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় তারা পক্ষ নয় এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তারা প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।
এই অবস্থানই পুরো সমঝোতাকে দুর্বল করে তুলছে। কারণ, ইরানের প্রভাববলয় ও আঞ্চলিক মিত্রদের প্রসঙ্গ এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। হিজবুল্লাহ লেবাননে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের একটি। আবার ইসরায়েলের কাছে হিজবুল্লাহ একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি। ফলে লেবানন এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবচেয়ে নাজুক জায়গায় পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ—দুই পক্ষই সেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পরই হামলার ঘটনা দেখিয়ে দিল, বাস্তবায়নের প্রশ্নে আস্থার সংকট এখনো গভীর। এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলে আক্রমণ না করে, তাহলে ইসরায়েলের জন্য এটি যুদ্ধের সময় নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অবস্থান ধরে রাখবে।
এই বক্তব্যের মধ্যেই মূল দ্বন্দ্ব লুকিয়ে আছে। ইসরায়েল বলছে, তারা নিরাপত্তার স্বার্থে অবস্থান বজায় রাখবে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতিকে দখল হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। ফলে এক পক্ষের কাছে যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অন্য পক্ষের কাছে তা আগ্রাসন। এই পারস্পরিক অবিশ্বাস যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বকে শুরু থেকেই অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এমন সময় এই হামলা হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডে নতুন আলোচনার জন্য রওনা হয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। এই আলোচনার লক্ষ্য ছিল অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক চুক্তিতে রূপ দেওয়া।
কিন্তু লেবাননে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে গেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে তিনি সফর বাতিল করেন। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর স্টিভ উইটকফের সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার খবর প্রকাশ পায়, তবু এই ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে যে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক পরিকল্পনা এখন মাঠের পরিস্থিতির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক চাপে আছে, যেখানে তাকে একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে, ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং লেবাননের পরিস্থিতি যাতে বড় যুদ্ধে না গড়ায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা সহজ নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতিমধ্যে সতর্ক করেছেন, যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে। এই বক্তব্য আসলে তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল। ইরান বোঝাতে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারী হয়, তাহলে তার মিত্রদের আচরণের দায়ও তাকে নিতে হবে।
কিন্তু এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও ওয়াশিংটন সব সময় তেলআবিবের সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। বিশেষ করে যখন ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তা হুমকির কথা বলে সামরিক অভিযান চালায়, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভাষা ও বাস্তব প্রভাবের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ লেবানন সরকার বুঝতে পারছে, পরিস্থিতি ভেঙে পড়লে দেশটি আবারও বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে যেতে পারে। কিন্তু লেবাননের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরেও সীমাবদ্ধতা আছে। হিজবুল্লাহ শুধু একটি সামরিক গোষ্ঠী নয়; তারা লেবাননের রাজনীতি, সমাজ ও নিরাপত্তা বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি সামনে আনছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে, লেবাননে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনতে হলে হিজবুল্লাহর সামরিক ক্ষমতা সীমিত করা জরুরি। কিন্তু লেবাননের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতায় এটি অত্যন্ত কঠিন ও স্পর্শকাতর বিষয়।
এই সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে দৃশ্যমান অস্বস্তি। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান নেতৃত্ব ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের জন্য পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্য অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।
সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে এমন ভাষায় সতর্ক করেছেন, যা সাধারণ কূটনৈতিক মন্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি তীক্ষ্ণ। তিনি বলেছেন, বর্তমানে পুরো বিশ্বে ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই ইসরায়েলের উচিত তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রকে অস্বস্তিতে না ফেলা।
ভ্যান্স আরও বলেছেন, মাত্র ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ হিসেবে ইসরায়েল সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যা হত্যা করে সমাধান করতে পারে না। এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত আছে—ওয়াশিংটন মনে করছে, ইসরায়েলের সামরিক কৌশল দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের পদক্ষেপ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলেছিলেন। তিনি আরও সতর্ক করেছিলেন, ‘বিবি, সাবধান হও, না হলে খুব শিগগিরই তুমি একা হয়ে যাবে।’
ট্রাম্পের আরেকটি মন্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, কোনো একজনকে খুঁজতে গিয়ে পুরো অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস করে দেওয়া উচিত নয়, কারণ সেখানে থাকা সবাই হিজবুল্লাহ সদস্য নয়। এই বক্তব্য শুধু সামরিক কৌশলের সমালোচনা নয়; এটি বেসামরিক প্রাণহানি ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগের প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এই টানাপোড়েনের মূল কারণ হলো লক্ষ্যগত পার্থক্য। ইসরায়েল মনে করছে, ইরান ও তার মিত্রদের দুর্বল করার জন্য এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তাদের দৃষ্টিতে, সামরিক চাপ ছাড়া হিজবুল্লাহ বা ইরানপন্থী শক্তিগুলোকে পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ভিন্ন। তারা দ্রুত যুদ্ধ থামাতে চায়, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে চায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে চায়, যা অন্তত আপাতত বড় সংঘাত ঠেকাতে পারে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়বে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন আবার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
লেবানন যুদ্ধবিরতির পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমতে শুরু করেছে এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন আংশিক স্বাভাবিক হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সংঘাত আবার শুরু হলে বাজার দ্রুত অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এই ঝুঁকি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে তারা এমন একটি দীর্ঘ যুদ্ধের বোঝা নিতে চাইবে না, যা অধিকাংশ মার্কিন ভোটারের কাছে জনপ্রিয় নয়।
সব মিলিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি কি লেবাননের কারণে ভেস্তে যেতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে দেওয়া যায় না। তবে ঝুঁকি স্পষ্ট। প্রথমত, ইসরায়েল চুক্তির পক্ষ নয় এবং নিজেদের সামরিক স্বাধীনতা ধরে রাখতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থান এক নয়। তৃতীয়ত, ইরান মনে করছে লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার দায় যুক্তরাষ্ট্রের। ফলে লেবাননে সংঘাত চলতে থাকলে তেহরান ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াবে।
তবে চুক্তি এখনই ভেঙে পড়েছে বলা যাবে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষেরই আলোচনায় থাকার বাস্তব স্বার্থ রয়েছে। ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও সম্পদ মুক্ত করার সুবিধা চায়। যুক্তরাষ্ট্র চায় যুদ্ধের অবসান, জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাত এড়ানো।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে বলা যায় একটি ভঙ্গুর কূটনৈতিক সন্ধিক্ষণ। শান্তির টেবিলে আলোচনা চলছে, কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে গোলা পড়ছে। সুইজারল্যান্ডের আলোচনায় কাগজে নতুন ভাষা লেখা যেতে পারে, কিন্তু দক্ষিণ লেবাননের আকাশে যদি আবার ড্রোন ও যুদ্ধবিমান দেখা যায়, তাহলে সেই ভাষা বাস্তবে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
লেবাননের ঘটনাই এখন প্রমাণ করছে, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো চুক্তি শুধু দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এখানে রাষ্ট্র, মিত্রগোষ্ঠী, সশস্ত্র সংগঠন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জ্বালানি বাজার এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—সবকিছু একে অন্যের সঙ্গে জড়িত। তাই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ভবিষ্যৎ শুধু সুইজারল্যান্ডের আলোচনাকক্ষে নির্ধারিত হবে না; তার বড় পরীক্ষা হবে দক্ষিণ লেবাননের ধ্বংসস্তূপ, সীমান্তরেখা এবং যুদ্ধবিরতির বাস্তব প্রয়োগে।
এই মুহূর্তে চুক্তি টিকে আছে, কিন্তু নিরাপদ নয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, কিন্তু স্থির নয়। আর মধ্যপ্রাচ্য আবারও এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একটি হামলা, একটি ভুল হিসাব বা একটি রাজনৈতিক বার্তা পুরো শান্তি-প্রক্রিয়াকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।

