পাকিস্তান বহু বছর ধরে নিজেকে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার একটি সামরিক শক্তি হিসেবে নয়, বরং মুসলিম বিশ্বে প্রভাবশালী নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে দেশটি আফ্রিকায় নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সুদানের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১.৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি ঘিরে সৌদি আরবের অবস্থান বদলে যাওয়ায় পাকিস্তানের সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা বড় ধরনের ধাক্কা খেল।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সৌদি আরব সুদানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত ১.৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তির অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় বলে জানা যায়। শুধু অর্থায়ন প্রত্যাহারই নয়, রিয়াদ ইসলামাবাদকে পুরো ব্যবস্থাটি বাতিল করার পরামর্শও দেয়। এই ঘটনা পাকিস্তানের জন্য কেবল একটি চুক্তি হারানোর বিষয় নয়; বরং এটি দেখিয়ে দিল, আফ্রিকায় বড় ভূরাজনৈতিক ভূমিকা নিতে চাইলে পাকিস্তানের হাতে এখনো যথেষ্ট নিজস্ব অর্থনৈতিক শক্তি নেই।
পাকিস্তানের কাছে সুদান চুক্তিটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় অস্ত্র রপ্তানি চুক্তি হতে পারত। প্রস্তাবিত প্যাকেজে ছিল কে-৮ কারাকোরাম হালকা আক্রমণ বিমান, কয়েকশ ড্রোন, সাঁজোয়া যান এবং চীনা উৎসের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা পাকিস্তানের মাধ্যমে সরবরাহের কথা ছিল। এই চুক্তি পাকিস্তানকে শুধু অস্ত্র বিক্রেতা হিসেবে নয়, আফ্রিকার সংঘাতপূর্ণ নিরাপত্তা রাজনীতিতে একটি সক্রিয় পক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ দিতে পারত।
কিন্তু সৌদি আরব অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বড় অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। ঘটনাটি ইসলামাবাদের জন্য এক ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া। পাকিস্তান যতই আফ্রিকায় প্রভাব বাড়াতে চাইুক, বড় আকারের সামরিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাকে এখনো বাইরের পৃষ্ঠপোষকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আর এই নির্ভরতার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মিত্রের অগ্রাধিকার বদলালে নিজের পরিকল্পনাও থেমে যায়।
পাকিস্তানের আফ্রিকা ভাবনা হঠাৎ তৈরি হয়নি। বহু দশক ধরে ইসলামাবাদ নিজেকে বিশ্বের একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এই কৌশলের সঙ্গে যুক্ত ছিল কূটনৈতিক যোগাযোগ, সামরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ এবং মুসলিম স্বার্থ রক্ষার নামে রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া।
ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে আরব রাষ্ট্রগুলোর প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন, সোভিয়েত দখলের সময় আফগান মুজাহিদদের সহায়তা এবং যুগোস্লাভ যুদ্ধের সময় বসনীয় মুসলিম যোদ্ধাদের প্রতি সমর্থন—এসব ঘটনাকে পাকিস্তান তার ঐতিহাসিক ভূমিকার অংশ হিসেবে তুলে ধরে এসেছে। সুদান চুক্তিও সেই ধারাবাহিকতার সঙ্গে মিলে যায়। ইসলামাবাদের দৃষ্টিতে এটি ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এক আফ্রিকান দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ, একই সঙ্গে আফ্রিকার প্রতিরক্ষা বাজারে প্রবেশের দরজা।
সুদান পাকিস্তানের জন্য আকর্ষণীয় হওয়ার পেছনে ইতিহাস ও রাজনীতির কিছু মিলও কাজ করেছে। দুই দেশই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামায়নের অভিজ্ঞতা বহন করে। দুই দেশের ইতিহাসেই বড় ভূখণ্ড বিচ্ছেদের ঘটনা আছে। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ হয়, আর ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা লাভ করে। দুই দেশই জাতিগত ও আঞ্চলিক ক্ষোভ থেকে জন্ম নেওয়া বিদ্রোহ, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামরিক প্রভাবশালী শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।
এই মিলগুলো পাকিস্তান ও সুদানের মধ্যে সহযোগিতার জন্য একটি স্বাভাবিক ভিত্তি তৈরি করেছিল। তবে ইসলামাবাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আফ্রিকায় একটি কৌশলগত প্রবেশদ্বার তৈরি করা। সুদান যদি পাকিস্তানি অস্ত্র ও সামরিক সহযোগিতার বড় গ্রাহক হয়ে উঠত, তাহলে সেই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে পাকিস্তান আফ্রিকার অন্যান্য বাজারেও জায়গা করে নিতে পারত।
চুক্তিটির মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সামরিক শিল্পকে আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠা করা। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্প দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাইরে নতুন বাজার খুঁজছে। অর্থনৈতিক সংকট, বারবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কর্মসূচির ওপর নির্ভরতা, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি এবং সীমিত শিল্প রপ্তানি ইসলামাবাদকে অস্ত্র রপ্তানির দিকে আরও আগ্রহী করেছে। কারণ প্রতিরক্ষা পণ্য বিক্রি পাকিস্তানের জন্য শক্ত মুদ্রা আয়ের একটি সম্ভাব্য পথ।
সুদান সেই অর্থে একটি পরীক্ষাক্ষেত্র হতে পারত। পশ্চিমা সরবরাহকারীরা যেখানে নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক ঝুঁকি বা ভাবমূর্তির কারণে অনেক সময় পিছিয়ে থাকে, সেখানে পাকিস্তান নিজের জন্য সুযোগ দেখেছিল। সুদানে সফল হলে আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল, পূর্ব আফ্রিকা এবং সাহেল অঞ্চলের বাজারে পাকিস্তানের প্রবেশ সহজ হতে পারত। নাইজেরিয়া ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলোও ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে বিবেচনায় আসতে পারত।
এই চুক্তির কূটনৈতিক গুরুত্বও কম ছিল না। সুদানের সঙ্গে বড় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারত। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা এবং জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় মঞ্চেও পাকিস্তান অতিরিক্ত সমর্থন আদায়ের সুযোগ পেতে পারত। তাই সুদান চুক্তি এককালীন অস্ত্র বিক্রির ঘটনা ছিল না; এটি আফ্রিকায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিস্তারের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
তবে এই পরিকল্পনার আরেকটি বড় দিক ছিল পাকিস্তান, চীন ও তুরস্কের স্বার্থের মিল। প্রস্তাবিত প্যাকেজে চীনা উৎসের এইচকিউ ধারার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার বিষয়টি বেইজিংয়ের পরোক্ষ ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়। চীন সাধারণত আফ্রিকার সংঘাতে প্রকাশ্যে জড়াতে সতর্ক থাকে। কিন্তু পাকিস্তানের মাধ্যমে চীনা প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ হলে বেইজিং সরাসরি সামনে না এসেও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেত।
তুরস্কের আগ্রহও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঙ্কারা আফ্রিকায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উপস্থিতি বাড়িয়েছে। সুদানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তুরস্কের সমর্থনও উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তানের অবস্থান তুরস্কের আঞ্চলিক লক্ষ্য, বিশেষ করে মুসলিম ব্রাদারহুড-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তির প্রতি আঙ্কারার সহানুভূতির সঙ্গে মিলে যায়। ফলে পাকিস্তান, চীন ও তুরস্কের সম্ভাব্য সমন্বয় লোহিত সাগর করিডর ও আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলে নতুন এক অনানুষ্ঠানিক ভূরাজনৈতিক অক্ষের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
প্রথম দিকে সৌদি আরব সুদানকে লোহিত সাগরের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছিল। রিয়াদের উদ্বেগ ছিল, সুদানের অস্থিরতা অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোও সেখানে সুযোগ নিতে পারে। র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সমর্থনের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাব বাড়ার বিষয়টিও সৌদি নীতিনির্ধারকদের ভাবাচ্ছিল।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পশ্চিমা সরকারগুলো নীরবে সৌদি আরবকে আফ্রিকার প্রতিনিধিযুদ্ধের গভীরে না জড়াতে উৎসাহিত করে। সুদানের মতো অতি অস্থিতিশীল যুদ্ধক্ষেত্রে বড় অস্ত্র স্থানান্তরকে সমর্থন করা রিয়াদের জন্য ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে সৌদি আরব অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায়। এই সিদ্ধান্ত সৌদি কৌশলের একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। রিয়াদ এখন বহিরাগত সংঘাতে গভীরভাবে জড়ানোর বদলে উত্তেজনা কমানো ও কৌশলগত সতর্কতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
পাকিস্তানের জন্য এর প্রভাব সুদানের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় প্রস্তাবিত আরেকটি ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে, কারণ সৌদি আরব আফ্রিকা নিয়ে নিজের সম্পৃক্ততা নতুন করে ভাবছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ বাহিনীর কাছে অন্তত পাঁচটি পণ্যবাহী বিমানে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। ওই কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে আছেন সামরিক শাসক খলিফা হাফতার।
যদি লিবিয়ার চুক্তিটিও ভেঙে যায়, তাহলে আফ্রিকা মহাদেশে পাকিস্তানের নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার স্বপ্ন আরও বড় ধাক্কা খাবে। সুদান ও লিবিয়া—দুই ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা ইসলামাবাদের জন্য শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়; এটি তার কৌশলগত ভাবমূর্তির ওপরও চাপ তৈরি করবে।
এই ঘটনাটি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। ইসলামাবাদ আফ্রিকায় প্রভাব বাড়াতে চায়, প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাড়াতে চায়, মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বের দাবিও জোরদার করতে চায়। কিন্তু এসব পরিকল্পনার অর্থায়ন যদি উপসাগরীয় মিত্র বা অন্য বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর করে, তাহলে সেই পরিকল্পনা কখনোই পুরোপুরি স্বাধীন থাকে না। মিত্রের অগ্রাধিকার বদলালেই উদ্যোগ থেমে যেতে পারে।
অর্থনৈতিক দুর্বলতা পাকিস্তানের কৌশলগত স্বাধীনতাকে সীমিত করছে। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ঋণনির্ভরতা, সীমিত শিল্প রপ্তানি এবং বারবার আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন দেশটির বড় পরিসরের বিদেশি উদ্যোগকে দুর্বল করে। বড় অস্ত্রচুক্তি শুধু পণ্য সরবরাহের বিষয় নয়; এর সঙ্গে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন, রাজনৈতিক দায় এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্ক জড়িত। পাকিস্তান একা এসব দায়িত্ব কতটা নিতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা রপ্তানি কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠছে। দেশটির সামরিক শিল্প আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। ড্রোন, বিমান, সাঁজোয়া যান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে সক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু উন্নত সামরিক সরঞ্জাম থাকলেই বাজার নিশ্চিত হয় না। বিশেষ করে আফ্রিকার মতো অঞ্চলে, যেখানে অনেক দেশ রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং বহিরাগত শক্তির প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে, সেখানে টেকসই প্রতিরক্ষা বাজার তৈরি করা কঠিন।
আফ্রিকার দৃষ্টিকোণ থেকেও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। সুদানের সংঘাত ইতিমধ্যে লাখো মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে উন্নত ড্রোন, বিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সাঁজোয়া যান ঢুকে পড়লে যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারত। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী বাহিনীর পেছনে থাকা বাইরের শক্তিগুলোও নিজেদের সমর্থন বাড়াতে উৎসাহিত হতে পারত।
ফলে সুদান দীর্ঘস্থায়ী প্রতিনিধিযুদ্ধের ময়দানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। উপসাগরীয় দেশ, তুরস্ক, চীন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা সেখানে ইয়েমেনের মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত। সৌদি আরবের সরে দাঁড়ানো তাই তাৎক্ষণিকভাবে বড় সামরিক উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দিয়েছে, আফ্রিকার সংঘাতগুলো এখন আর শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়; এগুলো মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে।
পাকিস্তানের জন্য সুদান চুক্তির ভেঙে পড়া একটি কৌশলগত সতর্কবার্তা। ইসলামাবাদ ইসলামি সংহতি, অস্ত্র রপ্তানি এবং আঞ্চলিক অংশীদারিত্বকে একসঙ্গে মিলিয়ে আফ্রিকায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি করতে চাইছিল। কিন্তু সৌদি সিদ্ধান্ত দেখিয়ে দিল, ধার করা অর্থ, ধার করা সক্ষমতা এবং ধার করা পৃষ্ঠপোষকতার ওপর দাঁড়িয়ে বড় ভূরাজনৈতিক স্বপ্ন বাস্তবায়ন কঠিন।
এখন প্রশ্ন হলো, পাকিস্তান এই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখবে। দেশটি কি নিজের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী না করেই আফ্রিকায় বড় সামরিক ভূমিকা নিতে চাইবে? নাকি সীমিত সক্ষমতা বুঝে ধাপে ধাপে বাস্তববাদী কূটনীতি বেছে নেবে?
সুদান অস্ত্রচুক্তির ঘটনা শুধু একটি ব্যর্থ চুক্তির গল্প নয়। এটি পাকিস্তানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সৌদি আরবের কৌশলগত সতর্কতা, আফ্রিকার সংঘাতের আন্তর্জাতিকীকরণ এবং মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতার বাস্তব রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। পাকিস্তান আফ্রিকায় যেতে চেয়েছিল বড় শক্তির মতো; কিন্তু সৌদি অর্থায়ন সরে যেতেই বোঝা গেল, সেই যাত্রার জ্বালানি এখনো ইসলামাবাদের নিজের হাতে নেই।

