মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। ইসরাইলের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দেশটির জনগণ, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক এবং শক্তভাবে দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে গুরুত্বহীন ও ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে ইরানকে নীতিগত অবস্থান থেকে সরানো সম্ভব নয়।
সম্প্রতি ইসরাইল কাটজ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে ‘মৃত্যু অবধারিত’ বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান আলোচনার মাধ্যমে কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, ইসরাইল কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে না। তবে কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলে সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই বক্তব্যের জবাবে আরাগচি বলেন, ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলি স্পষ্ট, প্রকাশ্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। তাই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তেল আবিবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হয় এবং ইসরাইল নতুন করে কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরান প্রয়োজনীয় জবাব দিতে কোনো ধরনের দ্বিধা করবে না।
আরাগচি আরও বলেন, ইরানের জনগণ, দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত, দৃঢ় এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। উভয় পক্ষই নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান ধরে রাখায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক ভারসাম্য নিয়ে চলমান মতবিরোধ ভবিষ্যতেও দুই দেশের সম্পর্ককে উত্তপ্ত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন এই অঞ্চলের কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে। কারণ নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনা শুধু ইরান ও ইসরাইল নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

