সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান থেকে বিরত হয়ে দেশটির ওপর ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা চূড়ান্ত অর্থনৈতিক আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে সহায়তা করবে তাদেরও আর্থিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। সূত্র: এএফপি
ইরানের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করার এই উদ্যোগে বেইজিংসহ বিভিন্ন দেশকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ’ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কোনো সমাধান আনবে না।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর পরিকল্পিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিতে ধস নামিয়ে দেশটির শাসনব্যবস্থার ‘পতন’ ঘটানোর হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি ব্যর্থ হতে বাধ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হুমকি সম্পর্কে জানতে চাইলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কোনো সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানায়।’
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্র চীনকে এই প্রচেষ্টায় যুক্ত হতে চাপ দেবে কি না জানতে চাইলে বেসেন্ট সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। সিএনবিসিকে তিনি বলেন, ‘অনেক আলোচনা ব্যক্তিগতভাবে করাই ভালো।’
তবে একই সঙ্গে তিনি বেইজিংকে ‘এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার’ আহ্বান জানান।
বেসেন্টের এই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে চীনের মুখপাত্র লিন আবারও যুদ্ধের সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ‘দায়িত্বশীল পদক্ষেপ’ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
লিন বলেন, এ ধরনের অবৈধ একপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে চীন।
চীনের এই কূটনীতিক আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইনে এসব নিষেধাজ্ঞার কোনো ভিত্তি নেই। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেরও এসব নিষেধাজ্ঞার অনুমোদন নেই।

