ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরু শহরের উপকণ্ঠে একটি পাথরখাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কাজ চলাকালে উঁচু পাহাড়ি অংশ থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ধসে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই শ্রমিকরা এর নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ তালুকের মাদাপাটনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো ওই দিন ভোরেও শ্রমিকরা পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই সময় প্রায় ৪০ ফুট উঁচু স্থান থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। এত দ্রুত ঘটনাটি ঘটে যে, সেখানে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক আত্মরক্ষার সুযোগই পাননি। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, উদ্ধারকারী দল এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অন্য কোনো শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো পাথরখাদান এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শ্রমিক জানান, দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে ওপরের বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন শ্রমিক পাথরের নিচে চাপা পড়েন। অন্যরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সাতজনই ভারতের বিহার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। জীবিকার সন্ধানে তাঁরা কর্ণাটকে এসে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে ওই পাথরখাদানে কাজ করছিলেন। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর প্রশাসন আহত ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে কী কারণে শিলাখণ্ড ধসে পড়ল এবং পাথরখাদানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনো ধরনের অবহেলা বা নিরাপত্তা ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্মাণশিল্প, খনি ও পাথরখাদানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন। তুলনামূলক কম মজুরিতে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করলেও অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। অতীতেও এ ধরনের কর্মস্থলে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করাই যথেষ্ট নয়; বরং পাথরখাদান ও খনি এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন, আধুনিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষায় কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় জীবিকার সন্ধানে আসা শ্রমিকদের প্রাণহানির এমন মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

