বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। এই কৌশলগত জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, হরমুজ প্রণালী কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র নয় এবং এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইরানের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ইরানের সামরিক সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ধরনের বিদেশি উসকানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান নির্ধারিত নৌপথ ও নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নিয়ম কার্যকর থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা সামরিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত ও কঠোর জবাব দেবে। দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির সামরিক নেতৃত্বের মতে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইরানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাদের দাবি, এই জলপথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবারও আলোচনায় এসেছে। নতুন এই সতর্কবার্তা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়ের।

