ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি ছিল তার কফিনের সামনে রাখা একটি ছোট কফিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্য ঘিরে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—ছোট কফিনটিতে কার মরদেহ রাখা হয়েছিল?
শনিবার (৪ জুলাই) শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় জানাজার অনুষ্ঠানে ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন আনা হয়। কফিনের ওপর রাখা ছিল তার পরিচিত কালো পাগড়ি। একই মঞ্চে তার পরিবারের নিহত কয়েকজন সদস্যের মরদেহও রাখা হয়। তাদের মধ্যেই ছিল ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির ছোট কফিন।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানিও সেই হামলার শিকার হন বলে জানানো হয়েছে। তার মরদেহই জানাজার অনুষ্ঠানে খামেনির কফিনের সামনে রাখা ছোট কফিনে বহন করা হয়।
শুক্রবার খামেনির মরদেহ তেহরানে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের কর্মসূচি শুরু হয়। ইরান সরকার ছয় দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এই সময়ে মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরেও নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পান।
সরকারি হিসাবে, শুধু তেহরানেই আগামী কয়েক দিনের কর্মসূচিতে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। জানাজার প্রথম দিন থেকেই হাজার হাজার মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন। শোকাহতদের অনেককে লাল ব্যানার বহন করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এদিকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত খামেনির মরদেহ তেহরানে রাখা হবে। এরপর শোকযাত্রা শেষে মরদেহ কোমে নেওয়া হবে। পরে ইরাকের কয়েকটি পবিত্র শহরে নেওয়ার পর সর্বশেষ বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের জন্মশহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

