ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৩ জনে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ৭৪০ জন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ এক সংবাদ সম্মেলনে সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে এখনো ৩১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলমান থাকায় পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের আঘাতে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। বহু পরিবার এখন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। জর্জ রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে মোট ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে অথবা এতটাই কাঠামোগত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো আর ব্যবহারযোগ্য নয়। অনেক এলাকায় সড়ক, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। আগামী সপ্তাহ থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আবাসন বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ প্রথম ধাপে ২০০টি নতুন বাড়ি হস্তান্তর করবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য অন্তত ২৫ হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ওসমা ও চুসপা এলাকায় প্রায় ৫ লাখ ৮৪ হাজার বর্গমিটার আয়তনের ৪০টির মতো জমি ইতোমধ্যে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেখানে পর্যায়ক্রমে নতুন আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। জর্জ রদ্রিগেজ জানান, কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া সম্ভাব্য জীবিতদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দল দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির দিক থেকে এটি ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। উদ্ধার অভিযান, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের মতো বড় চ্যালেঞ্জ এখন দেশটির সামনে অপেক্ষা করছে।

