সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে হাঙ্গেরিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে একটি পর্যটকবাহী বাস। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের মেজোকোভেসদ শহরের কাছে মহাসড়ক থেকে ছিটকে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে বাসটি উল্টে যায়। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমটিআই জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুইজন চালক ছিলেন। বাসটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে একদিকে কাত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বাসটির জানালাগুলো ভেঙে যায় এবং চারপাশে যাত্রীদের ব্যাগ ও স্যুটকেস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।
হাঙ্গেরির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা গেলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের জানালা দিয়ে বের করে আনেন। উদ্ধারকাজে বেশ কয়েকটি জরুরি সেবা সংস্থা অংশ নেয়।
হাঙ্গেরির পুলিশ জানিয়েছে, পোল্যান্ডে নিবন্ধিত বাসটি এম-৩ মহাসড়ক দিয়ে নিয়েরেজহাজা শহরের দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা রাস্তা থেকে ছিটকে খাদে পড়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় চালক সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাজিয়ার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা কর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
দুর্ঘটনায় পোল্যান্ডের নাগরিকদের সম্পৃক্ততার কারণে দেশটির সরকারও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর কনস্যুলার সেবা চালু করা হয়েছে এবং হাঙ্গেরির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যাচাই করা তথ্য পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কিও ঘটনাটিকে মর্মান্তিক হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি হাঙ্গেরির সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনার ইতিহাসেও বিশেষভাবে গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৩ সালের পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা। ২০০৩ সালে শিওফোকে ট্রেনের ধাক্কায় একটি জার্মান পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনার শিকার হলে ৩৩ জন নিহত হয়েছিলেন।
বর্তমান দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে চালকের ঘুমিয়ে পড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বাসে থাকা যাত্রীদের পরিচয় এবং নিহতদের জাতীয়তা যাচাইয়ের কাজও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চালিয়ে যাচ্ছে।

