মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও গভীর হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের পর এবার ওমান, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো ইরানে রাতভর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাব হিসেবেই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে নতুন এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওমানের দুকম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর জন্য ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং জ্বালানি ভরার স্থাপনায় ভারী হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে তারা দাবি করেছে, এসব স্থাপনা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বোমা হামলার জবাবে পরিচালিত পাল্টা অভিযানের তৃতীয় ধাপ। তাদের দাবি, অভিযানের লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘাঁটির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমার দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইরানি বাহিনী কুয়েত ও বাহরাইনেও মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কুয়েতে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদের গুদাম এবং একটি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়।
একই সঙ্গে বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায়ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিস্তারিত নিশ্চিত তথ্য তখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

