যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান এই ঘটনাকে কেবল একটি সামরিক সংঘর্ষ হিসেবে নয়, বরং জাতীয় মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবেও দেখছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, প্রতিশোধ শুধু সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, এটি পুরো ইরানি জাতির দাবি। তার ভাষায়, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবেই এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
তিনি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তার ‘নিষ্পাপ রক্ত’ এবং সাম্প্রতিক দুই দফা সংঘাতে নিহত সব মানুষের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের কোনোভাবেই দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ইরানের কাছে রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোজতবা খামেনি আরও বলেন, এই প্রতিশোধ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। তার মতে, নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও বা পরিস্থিতি বদলালেও এই অঙ্গীকার থেকে ইরান সরে আসবে না। তিনি দাবি করেন, প্রতিশ্রুত এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করে বা এমন কোনো চেষ্টা চালায়, তাহলে দেশটিকে কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য হত্যাচক্রান্ত নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এখন পর্যন্ত ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রমাণ তাদের হাতে আসেনি।
এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা, মা ও স্ত্রী নিহত হন এবং তিনিও আহত হন। এরপর থেকে তিনি প্রকাশ্যে না এসে মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই সমর্থক ও জনগণের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির এই বক্তব্য কেবল প্রতিশোধের ঘোষণা নয়; এটি ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এমন কঠোর ভাষার ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।

