কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে একটি সাংস্কৃতিক উৎসব মুহূর্তেই রূপ নেয় আতঙ্ক ও শোকে। ওন্টারিও প্রদেশের রাজধানী টরন্টোতে আয়োজিত একটি সালসা উৎসবে বন্দুক হামলায় দুইজন নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। হামলার পর পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন হামলাকারীর সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার টরন্টোর পশ্চিম সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ও আরলিংটন অ্যাভিনিউ সংলগ্ন এলাকায় উৎসব চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে উৎসবস্থলে উপস্থিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন।
টরন্টো পুলিশের সর্বশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত চারজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাকে শনাক্ত ও আটক করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় টরন্টো পুলিশ জানায়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর থাকবে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনার ভিডিও, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য থাকলে তা তদন্তকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এএফপির একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত সালসা উৎসবে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। উৎসবের প্রাণবন্ত পরিবেশের মধ্যেই আকস্মিক এই হামলার ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।
ওন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সেন্ট ক্লেয়ারের সালসা উৎসবে অর্থহীন সহিংসতায় দুইজনের প্রাণহানি এবং আরও কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কানাডায় একাধিক বন্দুক হামলার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত মাসের শেষ দিকে মন্ট্রিয়ালে আরেকটি বন্দুক হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুইজন নিহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে হামলাকারীও নিহত হয়।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমাঞ্চলের ছোট খনিশহর টাম্বলার রিজের একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় হামলাকারীর মা ও সৎভাইসহ আটজন নিহত এবং ২৭ জন আহত হন। পরে হামলাকারী আত্মহত্যা করেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনা কানাডায় জননিরাপত্তা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বন্দুক হামলাগুলো দেখাচ্ছে যে জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং অস্ত্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে টরন্টোর সর্বশেষ এই হামলার পেছনের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এতে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

