পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযানে আরও ১৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর ফলে চলমান অভিযানে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ১০২ জনে পৌঁছেছে।
নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জিয়ারাত জেলার মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে হামলার পর এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে অংশ নিচ্ছে। স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অভিযানে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর শুধু ‘অপারেশন শাবান’-এ নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ জন। আর বেলুচিস্তানের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত সাম্প্রতিক সব অভিযান মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১০২ জন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সাম্প্রতিক তিনটি পৃথক হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিক মিলিয়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, শেষ সশস্ত্র ব্যক্তিকে নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে। একই সঙ্গে এন-২৫ মহাসড়কে পৃথক আরেক অভিযানে আরও দুইজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যার দাবি করা হয়েছে। ওই অভিযানে অস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করার কথাও বলা হয়েছে।
এর আগে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেন, জিয়ারাতে পুলিশ স্টেশনে হামলাকারীরা ভারতের সমর্থন পেয়েছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক সংঘর্ষে পুলিশ ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করলেও ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগে হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করেছিল।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সশস্ত্র হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতির জবাবে সীমান্ত এলাকায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ নামে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে অতীতেও বহু সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষে পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী ২০০-র বেশি তালেবান যোদ্ধা ও তাদের মিত্র নিহত হন এবং ২৩ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্য প্রাণ হারান।
যদিও পাকিস্তান এসব অভিযানের সাফল্যের দাবি করছে, তবুও সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থির। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সামরিক অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সংলাপ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সমন্বয় জোরদার করা না গেলে এই সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে।

