ইরান ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাম্প্রতিক সংঘাত শেষ হলে তেহরান হয়তো আঞ্চলিক কূটনীতির কিছু ক্ষেত্রে লাভবান হতে পারে। জুন মাসের সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমা সরকারগুলো ইরানের ওপর থেকে অনেক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে। এতে দেশটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আবার যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাবও নতুন কোনো যৌথ শুল্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক লড়াইয়ে কার্যকর প্রমাণিত হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগও তেহরানের সামনে খুলে যেতে পারে।
তবে এই সম্ভাব্য লাভের মধ্যেও একটি জায়গায় ইরানের অবস্থান স্পষ্টভাবে দুর্বল হয়েছে। সেই জায়গাটি হলো ইরাক। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকে ইরান ইরাকের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। ইরাকের শিয়া রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে তেহরান নিজেকে এমনভাবে বসিয়ে নিয়েছিল যে, দলগুলোর মধ্যে বিরোধ মেটানো, সরকার গঠনে প্রভাব রাখা এবং চোরাচালান ও মুদ্রা বিনিময় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নগদ অর্থ সংগ্রহ—সব ক্ষেত্রেই ইরানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামিক স্টেটকে ২০১৭ সালে পরাজিত করতে ইরানঘনিষ্ঠ বহু ইরাকি আধাসামরিক গোষ্ঠী ভূমিকা রেখেছিল। সে সময় তাদের জনপ্রিয়তা ছিল প্রবল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই জনপ্রিয়তা ক্ষয় হতে থাকে। ২০১৯ ও ২০২০ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নে ইরানসমর্থিত মিলিশিয়াদের ভূমিকা ইরাকিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর অস্থিরতা সেই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়েছে। অনেক ইরাকি এখন মনে করছে, তাদের দেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধযুদ্ধের মঞ্চ বানানো হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় লক্ষণ দেখা যাচ্ছে মিলিশিয়া রাজনীতিতে। একসময় তেহরানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অনেকেই এখন দূরত্ব তৈরি করছে। জুনের শুরুতে মুকতাদা আল-সাদরের অনুগত সারায়া আল-সালাম মিলিশিয়ার যোদ্ধারা সামাররা শহরে ইরাকি সরকারের কাছে অস্ত্র জমা দিতে জড়ো হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস থেকে সরে দাঁড়ায়। শিয়া মিলিশিয়াদের এই শক্তিশালী জোট ইরাকি রাষ্ট্রের ভেতরে থেকেও আবার রাষ্ট্রের বাইরে আলাদা ক্ষমতাকাঠামো হিসেবে কাজ করেছে।
সারায়া আল-সালামের কয়েক হাজার যোদ্ধা ছিল এই জোট থেকে বেরিয়ে আসা প্রথম বড় শক্তি। এরপর আসাইব আহল আল-হকও একই পথে হাঁটার ঘোষণা দেয়। এই গোষ্ঠীটি ইরানসমর্থিত শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী। তাদের সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয়, ইরাকের সশস্ত্র রাজনীতিতে তেহরানের পুরোনো নিয়ন্ত্রণ আর আগের মতো অটুট নেই।
তবে সব গোষ্ঠী যে তেহরান থেকে দূরে সরে গেছে, তা নয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া এখনও ইরানের আঞ্চলিক স্বার্থ এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের ভাঙন ইরানের জন্য বড় ধাক্কা। কারণ, হামাসের ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালের হামলা এবং গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক অভিযানের পর ইরানের তথাকথিত প্রতিরোধ অক্ষ ইতোমধ্যে বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়ারা এতদিন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল। এখন সেই অবস্থানও নড়বড়ে হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো: ইরাকের ভেতরে শক্তি প্রয়োগের অধিকার কার হাতে থাকবে? রাষ্ট্রের, নাকি রাষ্ট্রের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীর?
ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার আগে ইরাকি সরকার একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করছিল। বাগদাদ একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে চাইছিল, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতেও চাইছিল না। কিন্তু অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু হওয়ার পর এই ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ইরাক কার্যত সংঘাতের একটি ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
ইরান ও ইরানসমর্থিত বাহিনী ইরাকের ভেতরে মার্কিন অবস্থান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশন, ইরাকি নিরাপত্তা, জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়। বিশেষ করে ইরাকি কুর্দিস্তানের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে হামলার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। ইরাকের মাটি ব্যবহার করে আশপাশের উপসাগরীয় দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানো হয়। পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে ইরানসমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর হামলা করে। এই সব ঘটনার মধ্যে ইরাকি সরকার অনেকটা দর্শকের মতো অবস্থান করে।
এতে বাগদাদের সামনে বহুদিনের এড়ানো প্রশ্নটি আবার ফিরে আসে—ইরাক কি সত্যিই সার্বভৌম রাষ্ট্র, যদি তার ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেরা যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারে?
গত এক দশকে ইরাক ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রের বহু কাজের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে। ২০১৬ সালে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকের প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ করা হয়। কাগজে-কলমে তারা প্রধানমন্ত্রীর অধীন থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক গোষ্ঠী নিজেদের আলাদা কমান্ড কাঠামো বজায় রেখেছে এবং তাদের আনুগত্য অনেক সময় বাগদাদের চেয়ে তেহরানের প্রতি বেশি ছিল।
নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির নেতৃত্বাধীন সরকার, যার নির্বাচন মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থন করেছিলেন, মিলিশিয়াদের নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সরকার পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের কিছু অংশকে জোট থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে উৎসাহিত করছে। এই প্রক্রিয়া যদি গতি পায়, তবে বাগদাদ ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ পেতে পারে।
সারায়া আল-সালাম এই পথে সবচেয়ে এগিয়েছে। তারা ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পূর্ণ একীভূত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইরাকে সক্রিয় বহু সশস্ত্র গোষ্ঠীর শিকড় মুকতাদা আল-সাদরের আন্দোলন এবং ২০০৩ সালের পর মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে তার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহে পাওয়া যায়। সেই প্রেক্ষাপটে সাদরের বাহিনীর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে যুক্ত হতে চাওয়া একটি যুগের অবসানের ইঙ্গিত বহন করে।
আসাইব আহল আল-হকের নেতা কায়েস আল-খাজালিও অস্ত্র সমর্পণ এবং ইরাকি রাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাদর ও খাজালি—দুজনের ক্ষেত্রেই পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস থেকে সরে আসা শুধু বাগদাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার কৌশল নয়, বরং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের দরজা খোলা রাখার প্রচেষ্টাও হতে পারে।
তবে কাতাইব হিজবুল্লাহ, হারাকাত আল-নুজাবা এবং কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদার মতো গোষ্ঠীগুলো এখনও নিরস্ত্রীকরণে রাজি নয়। তারা দাবি করছে, ইরাক এখনও মার্কিন দখলের অধীনে আছে এবং মার্কিন বাহিনী দেশ ছাড়ার আগে তারা অস্ত্র ছাড়বে না। কিন্তু এই অবস্থান তাদের ক্রমেই একঘরে করে তুলছে। অন্য গোষ্ঠীগুলো যখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, তখন অনমনীয় গোষ্ঠীগুলোকে আর জাতীয় প্রতিরোধের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা কঠিন হচ্ছে। বরং তারা ক্রমেই বিদেশি স্বার্থ রক্ষাকারী বিচ্ছিন্ন শক্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ইরাকে ইরানের প্রভাব মূলত দুই স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। প্রথমটি ছিল সশস্ত্র মিলিশিয়ার শক্তি। দ্বিতীয়টি ছিল ইরাকি সমাজ ও রাজনীতির ভেতরে গভীর প্রভাব বিস্তার। দ্বিতীয় স্তম্ভটিই তেহরানকে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দিয়েছিল। এখন সেই ভিত্তিই দুর্বল হতে শুরু করেছে।
এক দশক আগে ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে ইরাকি সেনাবাহিনীর পাশে লড়েছিল। তখন তারা জাতীয় নিরাপত্তার রক্ষক হিসেবে জনসমর্থন পেয়েছিল। এই জনপ্রিয়তা ২০১৮ সালের সংসদীয় নির্বাচনে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ভোটেও রূপ নেয়। কিন্তু এরপর পরিস্থিতি বদলায়। অক্টোবর ২০১৯ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। এতে মিলিশিয়াদের ভাবমূর্তি বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু হওয়ার পর তাদের হামলাগুলো ইরাককে সরাসরি ইরানের যুদ্ধে টেনে নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা হয়। এই অবস্থান এতটাই অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বও প্রকাশ্যে ইরানের যুদ্ধের পক্ষে জনগণকে আহ্বান জানায়নি। নাজাফের সর্বোচ্চ শিয়া ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আইনের কথা বলেছে, কিন্তু ইরানের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য কোনো ধর্মীয় আহ্বান জানায়নি। এর অর্থ পরিষ্কার: ইরানের সঙ্গে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেও ইরাকের স্বার্থ আগে।
এতে অবশ্য ইরানসমর্থিত মিলিশিয়ারা রাতারাতি বিলীন হয়ে যাবে না। ইসলামি প্রজাতন্ত্র যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন তারা ইরাকে নিজেদের মিত্র ও প্রতিনিধিদের সমর্থন দেবে। তেহরান ইরাক ছাড়তে চাইবে না, কারণ আঞ্চলিকভাবে তার অন্য মিত্ররা ইতোমধ্যে বড় ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৪ সালে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের শাসনের পতন ঘটে। লেবাননে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক দফা কঠিন সংঘর্ষের পর দুর্বল হয়েছে।
অন্যদিকে ইরাকও হয়তো ইরানঘনিষ্ঠ সব মিলিশিয়াকে একসঙ্গে নিরস্ত্র করার ঝুঁকি নেবে না। এমন পদক্ষেপ শিয়া গোষ্ঠীগুলোর ভেতরে সংঘর্ষ ডেকে আনতে পারে, যা শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরাকের কোনো সরকারই চাইবে না। তাই পরিবর্তনটি ধীরে ধীরে হবে, কিন্তু তার রাজনৈতিক তাৎপর্য বড়।
আজ ইরাকে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে। তেহরান চাইছে যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থায় ইরাকে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হোক। কিন্তু বাস্তবে ইরানি নেটওয়ার্ক নয়, ইরাকি রাষ্ট্রের কর্তৃত্বই এখন এগোচ্ছে। যদি এই ধারা টিকে থাকে, তবে ইরাক ইরানবিরোধী রাষ্ট্রে পরিণত হবে না; তবে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই শিথিল হবে।
এই পরিবর্তনের ফলে ইরাক আরব উপসাগরীয় দেশগুলো ও বিস্তৃত আঞ্চলিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। ইরানি গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জর্ডান ও উপসাগরীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোও সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে ইরাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত থেকে নিজেকে দূরে রাখার বেশি সুযোগ পাবে।
এই পরিবর্তন ইরানের প্রতিরোধ অক্ষের দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে। ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়ারা ইরাকে সক্রিয় থাকবে, কিন্তু তাদের রাজনৈতিক মর্যাদা আগের মতো থাকবে না। গত কয়েক দশকের মতো ইরাক আর সহজে ইরানের আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।
ইরানের জন্য এই পরিস্থিতি নতুন নয়। সিরিয়ায়ও তেহরান একসময় বড় প্রভাব রাখত। কিন্তু বছরের পর বছর সাম্প্রদায়িক মিলিশিয়া ব্যবহার করে একটি কঠোর শাসনকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা সিরীয়দের মধ্যে ইরানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইরাকে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। একটি অনিচ্ছুক দেশকে নিজের সামরিক লক্ষ্যের বাহন বানাতে গেলে শেষ পর্যন্ত সেই দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব দূরে সরে যায়।
যদি বর্তমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে ইরাকে পৌঁছায়, তবে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো আবার সক্রিয় হয়ে আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। কিন্তু তা করলে ইরাক আবার এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, যেখানে অধিকাংশ ইরাকি—শিয়া জনগোষ্ঠীর বড় অংশসহ—জড়াতে চায় না। এতে ইরানের প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়বে।
ইরাকের শিয়া রাজনৈতিক অভিজাতরাও এখন স্থায়ী প্রতিরোধ রাজনীতির চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের কাছে বাগদাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, অর্থনীতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এখন তেহরানের কৌশলগত যুদ্ধের চেয়ে বেশি জরুরি।
সব মিলিয়ে, ইরান সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে কিছু কূটনৈতিক বা সামরিক সুবিধা পেলেও ইরাকে তার পুরোনো আধিপত্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। বাগদাদ ধীরে ধীরে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। মিলিশিয়াদের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, আরব অঞ্চলের সঙ্গে নতুন সংযোগ এবং জনগণের মধ্যে বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিরক্তি—সবকিছু মিলিয়ে ইরাকের রাজনীতি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।
ইরান হয়তো যুদ্ধ টিকে যাবে, কিন্তু ইরাকে তার আগের অবস্থান আর আগের মতো টিকে থাকবে কি না—সেই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

